বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ কেন

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:১৮ পিএম

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ কেন

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কেন শুধু টেকনোক্র্যাট কোটার মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ আছে এমন সূত্রগুলো কোটার মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়ে  তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন।

প্রথম কারণ হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গত মেয়াদেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সঙ্গে অন্য কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী গত মেয়াদের মতো এবারও টেকনোক্র্যাট  মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনা করতে চান।

দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তার সরকারের টেকনোক্র্যাটদের বাদ দিতে চান। কারণ জনগণের জন্য নির্বাচনকে জনগণের প্রতিনিধিদের দিয়েই পরিচালনা করতে চান। তাই আপাতত কোনও টেকনোক্র্যাট  মন্ত্রী নয়।

তৃতীয় কারণ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও দলের সঙ্গে সংলাপে কোনও দল ও জোট যেন নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করতে না পারেন, সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়াও এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় কারণ। নিজ সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অন্যকে জানিয়ে দিলেন, তার নেতৃত্বে আগামী দিনের নির্বাচনকালীন সরকারে আর কোনও টেকনোক্র্যাট নয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর সন্ধ্যায় পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি,  ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং  ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

মঙ্গলবার ( ৬ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে মন্ত্রিসভা থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তার নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগ জমা দেন এই মন্ত্রীরা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং  ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

মন্ত্রীদের পদত্যাগ পত্র পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম  বলেন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা নিজেদের পদত্যাগ পত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। এখন প্রক্রিয়া করতে সময় লাগবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা যাবে।

এর আগে, দুপুরে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আজকের মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার টেকনোক্র্যাট সদস্যদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যরা স্ব-পদে বহাল থাকবেন। তাদের পদত্যাগ করতে হবে না।

মন্ত্রিপরিষদের টেকনোক্র্যাট সদস্য হচ্ছেন তাঁরা, যাঁরা জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য নন। বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সদস্য রয়েছেন মোট ৫৩ জন। তাদের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ৩৩ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৮ জন এবং উপমন্ত্রী দুজন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম জানান, চারজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী তাঁদের পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তা অনুমোদন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সেটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠাবে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

টেকনোক্রেট কোটায় চট্টগ্রামের এক মাত্র মন্ত্রী ছিলেন নুরুল ইসলাম বিএসসি। গত ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি।

ওই দিনই নতুন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সানোয়ারা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলাম বিএসসি নৌকা প্রতীকে বন্দর নগরীর একটি আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনে ওই আসনটি জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলুকে ছেড়ে দেন তিনি।

নবম সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক।