ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

রবিতে আসছে গ্রামীণ হারাচ্ছে

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার, ১০:০৬ পিএম

রবিতে আসছে গ্রামীণ হারাচ্ছে

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল বা মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা চালুর প্রায় ১০ দিন পার হলো। এ সেবা চালুর পর অন্য অপারেটর থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক এসেছে রবিতে। আর সবচেয়ে কম টেলিটকে।  সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হারিয়েছে গ্রামীণ ফোন। এমএনপি চালু হওয়ার পাঁচ দিনে মোট আবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ১ অক্টোবর এমএনপি সেবা চালু হয়।

বিটিআরসি থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, অপারেটর বদল করে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক এসেছে রবিতে। রবিতে ২ হাজার ৩৪১ জন। এ ছাড়া বাংলালিংকে ১ হাজার ৮৯, গ্রামীণফোনে ৬৮২ এবং টেলিটকে ৮৯ জন গ্রাহক অন্য অপারেটর থেকে এসেছে। ওই তথ্যে দেখা গেছে, অপারেটর পরিবর্তনের আবেদন এসেছে ১০ হাজার ১২২টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে ৪ হাজার ১৮১টি এবং বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৮৬২টি। আবেদন ঝুলে আছে ৭৯টি। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, টেলিটক থেকে ৮২, গ্রামীণফোন থেকে ১ হাজার ৩৫৬ এবং বাংলালিংক থেকে ৯২৬ জনসহ মোট ২ হাজার ৩৪১ জন গ্রাহক রবিতে এসেছেন। টেলিটক থেকে ২৩, গ্রামীণফোন থেকে ৪৫০ এবং রবি থেকে ৬০৪ জনসহ মোট ১ হাজার ৮৯ জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তন করে বাংলালিংকে এসেছেন।

গ্রামীণফোন থেকে ২৮, রবি থেকে ৩৭ এবং বাংলালিংক থেকে ২৪ জনসহ মোট ৮৯ জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তন করে টেলিটকে এসেছেন। টেলিটক থেকে ২৫, রবি থেকে ৩৩১ এবং বাংলালিংক থেকে ৩২৬ জনসহ মোট ৬৮২ জন গ্রাহক গ্রামীণফোনে এসেছেন।

আগের নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলাতে একজন গ্রাহককে ৫০ টাকা ফির সঙ্গে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স এবং ভ্যাটসহ মোট ১৫৮ টাকা দিতে হচ্ছে।

এমএনপি সুবিধার আওতায় গ্রাহকরা তাদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন না করেই অপারেটর বদল করতে পারবেন। অর্থাৎ কারও যদি এখন গ্রামীণ ফোনের নাম্বার থাকে তাহলে তিনি তার নম্বর পরিবর্তন না করেই রবি বা বাংলালিংকের ভয়েস ও ডাটা সুবিধা নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, ১ অক্টোবর থেকে এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর রবির শক্তিশালী ৪.৫ জি নেটওয়ার্কে আসতে ইচ্ছুক গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি এবং এর জন্য আমরা আমাদের গ্রাহকদের ধন্যবাদ  জানাই।

যদিও এমএনপি সেবায় এখনো সেভাবে গ্রাহক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

শাহেদ আলম বলেন, সেবাটি নিতে গ্রাহকদের আগ্রহী করে তুলতে প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার। এখন পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে ৫০ শতাংশ আগ্রহী গ্রাহক নানা কারণে এমএনপি সেবার মাধ্যমে অপারেটর পরিবর্তন করতে পারেননি।

যেসব কারণে গ্রাহকরা এমএনপি সেবা নিতে পারছেন না সেগুলো দূর করতে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, এমএনপির মাধ্যমে  টেলিকমিউনিক্যাশনস সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং একই সঙ্গে আমাদের নেটওয়ার্কে গ্রাহকদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।

সেখানে আরও বলা হয়, একটি কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রামীণফোন বিটিআরসি নির্ধারিত এমএনপির গাইডলাইন মেনে চলে সেবা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর তাই এমএনপির গাইডলাইনের শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকরা এ সেবা পাবেন।

গত আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটি ৪১ লাখ ৭৯ হাজার। এই গ্রাহক সংখ্যার বিপরীতে ৪ হাজার ২১২ জন গ্রাহকের অপারেটর বদলের পরিসংখ্যান নিতান্তই সামান্য।

মোবাইল কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাত কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার গ্রাহক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। তাদের পরে রয়েছে রবি, তাদের গ্রাহক সংখ্যা চার কোটি ৬১ লাখ ৩২ হাজার। বাংলালিংকের গ্রাহক তিন কোটি ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার।

 বিটিআরসি বলছে, বিশ্বে প্রায় ৭২টি দেশে এ সেবা পাচ্ছেন মোবাইল ফোন গ্রাহকরা। প্রতিবেশী ভারতে ২০১১ সালে ও পাকিস্তানে ২০০৭ সাল থেকে এ ধরণের সেবা চালু আছে।

যেভাবে অপারেটর বদল করবেন :

জানা যায়, যেহেতু গ্রাহকের অপারেটর বদল হচ্ছে, সেহেতু তাকে নতুন অপারেটরের সিম তুলতে হবে।
>> গ্রাহক যে অপারেটরে যেতে চান, সেই অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যেতে হবে। পুরনো অপারেটরের সচল সিমটি সঙ্গে নিতে হবে।
>> গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে এমএনপি সেবা নেওয়ার কথা জানালে সেখান থেকে পুরনো অপারেটরের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করে পোর্টিংয়ের (এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটর যাওয়ার অনুরোধ) আবেদন করা হবে।
>> পুরনো অপারেটর ছাড়পত্র দিলে নম্বর পোর্টেবিলিটি ক্লিয়ারিং হাউজ নম্বর পোর্টিং করে দেবে।
>> পুরো বিষয়টি হবে অনলাইনে। ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু থাকায় গ্রাককে অপারেটর বদলাতে ছবি আর জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে না। আঙুলের ছাপ মিলে গেলেই তার তথ্য এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে স্থানান্তর হয়ে যাবে।
>> নতুন সিম পেতে একজন গ্রাহকের সময় লাগবে ৫ মিনিটের মত। তবে সিম সক্রিয় হতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা।
>> পোস্ট পেইড গ্রাহকের ক্ষেত্রে পুরনো অপারেটরের কাছে বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ না করে অপরারেটর বদলানো যাবে না।
>> প্রিপেইড গ্রাহক নতুন অপারেটরের পোস্ট পেইডে বা পোস্ট পেইড গ্রাহক প্রিপেইডে যেতে পারবেন না।
>> পুরনো অপারেটরে অব্যবহৃত ব্যালেন্স বা ডেটা নতুন অপারেটরে স্থানান্তর হবে না। এ কারণে ব্যালেন্স শেষ করে তবেই এমএনপিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
>> আবারও অপারেটর পরিবর্তন করতে হলে গ্রাহককে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, আগের অপারেটরে কারও অব্যবহৃত ব্যালেন্স থাকলে তা দুই বছর পর্যন্ত পুরনো অপরেটরে জমা রাখার নিয়ম করা হচ্ছে।

দুই বছরের মধ্যে যদি কেউ আগের অপারেটরে ফিরে যান, তাহলে তিনি ওই ব্যালেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। তা না হলে তা সরকারি কোষাগারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হবে।