ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

ইসলামী ঐক্যজোট ছাড়লেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

প্রতিনিধি, হাটহাজারী

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:২০ এএম

ইসলামী ঐক্যজোট ছাড়লেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

চট্টগ্রামের বিখ্যাত দীনি শিক্ষানিকেতন আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার  মুহতামিম(মাদ্রাসা প্রধান)  আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী  ইসলামী ঐক্যজোট থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঐক্যজোটের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে বাবুনগরীকে সিনিয়র নায়েবে আমির করা হয়েছিল।

বুধবার বাবুনগরীর পদত্যাগের বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগর শাথার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ সারাবেলাকে খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া পেইজে বাবু নগরীর পদত্যাগের খবরটি প্রচার করে।

সূত্র জানায়, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তার পরিচালিত মাদ্রাসায় এক সভায় বুধবার পদত্যাগের ঘোষণাটি দেন। তিনি বলেন- “ধর্মনিরপেক্ষবাদের বিরোধী মুফতী আমিনীর জোটে আমি শরিক ছিলাম৷ মুফতি আমিনীর আদর্শকে ভালোবেসে তার দলকে ভালবেসেছি। কিন্তু বর্তমানে ইসলামী ঐক্যজোটের নামে ‘ধর্মের গোড়া কেটে আগায় পানি দেয়া আওয়ামী দলের এজেন্টদের সাথে আমি নেই ৷ ঐ দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীরের পদ হতে আমি পদত্যাগ করলাম “৷ এ সময় জামিয়ার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষকগণ  উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার পিতা আল্লামা হারুন বাবুনগরী (রহ.) চিরকাল আওয়ামী ধর্মবিদ্বেষীদের বিপক্ষে কাজ করে গেছেন। আমি শেষ বয়সে, মোটা অংকের লোভে ঐতিহাসিক আদর্শ বিনষ্ট করে দিতে পারব না!’

১৯৯৯ সালে চারদলীয় জোট প্রতিষ্ঠার সময় শায়খুল হাদীস আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধে। ২০০১ সালে জোটের মনোনয়নে দলটির তিনজন প্রার্থী এমপিও হন। পরে শায়খুল হাদীস সরে দাঁড়ালেও মুফতি ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একাংশ জোটে থেকে যায়। সে সময় মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি অংশ জোট থেকে বেরিয়ে যায়।

২০১৬ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আবদুল লতিফ নিজামীকে চেয়ারম্যান, মুফতি আমিনীর ছেলে আবুল হাসানাত আমিনীকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মুফতি ফজলুল্লাহকে মহাসচিব করা হয়। ওই কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছিল মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত সবশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে  বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যায় প্রায় দেড়যুগের শরিক ইসলামী ঐক্যজোট।

কওমি মাদ্রাসা-ভিত্তিক কয়েকটি দলের এই জোট আলাদাভাবে ইসলামপন্থী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বতন্ত্র এবং শক্তিশালী একটা অবস্থান তুলে ধরতে চানবলে প্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে আবদুল লতিফ নেজামী ও আবুল হাসনাত আমিনী চারদলীয় জোট ছাড়লেও ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকীব বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেই থেকে গেছেন।তিনি নিজেকে ঐক্যজোটের নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বিভিন্ন সভায় যোগ দিচ্ছেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশের পর থেকে ইসলামী ঐক্যজোটই ছিল সবচেয়ে বেশি ভিকটিম। হেফাজতের কর্মকাণ্ড সারাদেশে সাংগঠনিক রূপ নিতে ইসলামী ঐক্যজোটের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতেও পারবেন না। এছাড়া, নেতাদের নামে অসংখ্য মামলাও রয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চারদলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসে ইসলামী ঐক্যৈজোট।