ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে আশ্বাসে রাজপথ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:৩৭ পিএম

চট্টগ্রামে আশ্বাসে রাজপথ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

সড়কে নৈরাজ্য-অনিয়ম দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর রাজপথ ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, এ কে খান মোড়, লালখান বাজার ও খুলশীসহ অন্তত ১০টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। 

ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর নগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে জিইসি মোড়, গরিবুল্লাহ শাহ মাজার, ওয়াসা এলাকায় কয়েকশ’ ছাত্র মিছিল করে রাস্তায় নেমে আসে।

এ সময় তারা বেশ কিছু সিএনজি অটোরিকশা, বাসের লাইসেন্স দেখার জন্য চালকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এ সময় সড়কে গাড়ি চলাচল একেবারে কমে যায়। অনেক গাড়ি আগের মোড়ে ঘুরিয়ে ঘুরপথে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ছাত্রদের বুঝিয়ে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

আন্দোলনরত একজন ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের দাবি নিরাপদ সড়ক। আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক তা আমরা চাই না। যদি চালকের লাইসেন্স না থাকে, গাড়ির ডকুমেন্ট ঠিক না থাকে, ফিটনেস না থাকে তবে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
তিনি জানান, বুধবারের বিক্ষোভে স্কুলের শিক্ষার্থী বেশি থাকলেও বৃহস্পতিবার কলেজের শিক্ষার্থীরাই অংশ নিচ্ছে বেশি। নগরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা আছেন এ আন্দোলনে।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের আশ্বাসের পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সড়ক থেকে শিক্ষার্থীরা সরে যায়।

নগরীর মুরাদপুর ও দুই নম্বর গেট এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম, ওয়াসার মোড় ও জিইসি মোড় এলাকায় সহকারী কমিশনার তানভীর ফরহাদ শামীম, খুলশী, লালখান বাজার ও চান্দগাঁও এলাকায় সহকারী কমিশনার রঞ্জন চন্দ্র দে এবং নওশের ইবনে হালিম যান।

সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম কে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেছি। জানিয়েছি, তাদের যৌক্তিক সব দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
“সে লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে। পরিবহন খাতে নৈরাজ্য বন্ধে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যাতে কোনো চালক সড়কে গাড়ি না চালায় সেজন্য নিয়মিত আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা করা হবে।”

“সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলেছি, একজনের কাজ অন্যজন করলে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। তারা যেন পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। তারা আশ্বস্ত হয়েছে,” বলেন তৌহিদুল ইসলাম।

ঢাকার মতো চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় গাড়ি আটকে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। শিক্ষার্থীরা আটটি গাড়ি আটক করে হাকিমদের হাতে দেয়। এসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তৌহিদুল ইসলাম।

এদিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের পটিয়ায় কয়েকটি স্থানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের অবস্থান নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।