শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

পুলিশ সদস্যের বাসায় ইয়াবা কারবার !

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ১১:২২ পিএম

পুলিশ সদস্যের বাসায় ইয়াবা কারবার !

বাকলিয়ায় বাসা থেকে র‌্যাবের ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এসআই খন্দকার সাইফ উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।তিনি নগরের বাকলিয়া থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাইফ উদ্দিনকে নগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু বাকলিয়া থানা-পুলিশের সহযোগিতায় সাইফ পলাতক হয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসাইন জানান, এসআই খন্দকার সাইফ উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

“পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার পদমর্যাদর একজন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদেস্যের কমিটি করা হয়েছে।”

কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসআই সাইফ উদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানার পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার একটি বাসা থেকে ১৪ হাজার ১০০ পিচ ইয়াবা বড়ি জব্দ করে র্যা ব। এ সময় পুলিশের সোর্স নাজিম উদ্দিন ওরফে মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ওই বাসা থেকে পুলিশের ইউনিফর্ম, মাদক বিক্রির ২ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। র‌্যাব বলছে, সাইফ ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করতেন। তবে তিনি পরিবার নিয়ে অন্য জায়গায় থাকতেন।

এই ঘটনায় র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক নাজমুল হুদা বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাকলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। এতে গ্রেপ্তার নাজিম ও পলাতক এসআই সাইফকে আসামি করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, এসআই সাইফ সোমবার রাতে বাকলিয়া থানা-পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি অসুস্থ দাবি করলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। কিন্তু পুলিশের আরেকটি সূত্র বলছে, বাকলিয়া থানা-পুলিশ সাইফকে পালানোর সুযোগ করে দিতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি জানার পর নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাইফকে ধরতে অভিযান শুরু করে।

এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব কুমার চৌধুরী সন্ধ্যায় বলেন, বুকে ব্যথা হওয়ায় এসআই সাইফকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ফোর্স দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে পালিয়েছে জানেন না। বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, বাকলিয়ার ওই বাসাটি দেড় বছর আগে ভাড়া নেন সাইফ। তিনি বাকলিয়া, চাক্তাই এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিতেন। পরে ওই ইয়াবাগুলো বাসায় রাখতেন। এরপর গ্রেপ্তার নাজিম ‘পুলিশের হয়ে’ এগুলো বিক্রি করতেন।

বাকলিয়া থানায় করা এ মামলায় বাড়ির মালিকের ছেলে এসএম নাজিম উদ্দিন মিল্লাতকে (৩৭) প্রধান আসামি করা হয়েছে। পলাতক দেখানো হয়েছে এসআই সাইফকে।

নগরীর পশ্চিম বাকলিয়ার তুলাতলী হাফেজ নগর এলাকার হাজী গোফরান উদ্দিন মুন্সীর বাড়িতে সোমবার রাতে অভিযান চালায় র্যািব। ওই বাড়ির নিচ তলার একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন বাকলিয়া থানার চাক্তাই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খন্দকার সাইফ উদ্দীন।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মিমতানুর রহমান জানান, বাসাটি থেকে ১৪ হাজার ১০০ ইয়াবা উদ্ধার করা এবং বাড়ির মালিকের ছেলে মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া বাসা থেকে এসআই সাইফের ব্যবহার করা পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাপের কভারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বাসাটিতে বেশকিছু ব্যাগও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে থাকা এক কর্মকর্তা।

র‌্যাব-৭ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, তিনতলা ভবনের নিচ তলার বাসাটি মাসিক আট হাজার টাকা ভাড়া দিতেন এসআই সাইফ। তার আগে চাক্তাই ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্য বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। বাসাটি তারা ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

শাহ আমানত সেতু চেকপোস্টে প্রতিদিন তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ ছিল সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। চেকপোস্টটি বাকলিয়া থানার চাক্তাই ফাঁড়ির অধীনে।

এর আগে গত ১২ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রেদোয়ান। সেদিন নগর গোয়েন্দা পুলিশ তাঁর কাছ থেকে এক হাজার পিচ ইয়াবা জব্দ করে। এর আগে রেদোয়ান ২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার সরকারি সিটি কলেজের ফটকের সামনে ১ হাজার ৭০০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেদিন একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রেদোয়ানকে ওই ইয়াবাসহ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো এর বিচার শেষ হয়নি। ওই মামলায় ছয় মাস কারাভোগ করে জামিনে বের হয়েছিলেন রেদোয়ান। এরপর আবার তিনি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হলেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ২০১৬ সালের ঘটনায় রেদোয়ান এখন পর্যন্ত বরখাস্ত আছেন।