ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

আধাঁর ঘরে চাঁদের আলো

আনোয়ারা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ মে ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:০৭ এএম

আধাঁর ঘরে চাঁদের আলো

অদম্য মেধাবী রিপা আকতার গল্পকেও হার মানিয়েছে। দারিদ্র্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সব বাধা ডিঙিয়ে রিপা এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আনোয়ারা উপজেলার দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করা রিপার পিতা মোহাম্মদ হাসান পেশায় রিকশা চালক । 

হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা রিপা আকতারের প্রাপ্ত নম্বর ১২০৩। চট্টগ্রাম বোর্ডে এবারের এসএসসি ফলাফলে মফস্বলের যে কোন শিক্ষার্থীর জন্য তা তাক লাগানো ফলাফল। রিপা আকতারের পিতা রিকশা চালক মোহাম্মদ হাসান বলেন, অনেক সময় না খেয়ে থেকেছি। এক বেলা খেয়েছি, আরেক বেলা খাইনি। মেয়ে তবুও লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয়নি। চালক হয়েও মেয়ের জন্য কম্পিউটার কিনেছি। সেদিন অনেকে মুখ টিপে হেসেছেন। আজ মেয়ে আমাদের মুখ উজ্বল করেছে। তার ফলাফলে এলাকার সবাই খুশি।

রিপার মতই প্রতিবন্ধকতা জয় করে আনোয়ারা দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আরো ৩ শিক্ষার্থী। যাদের প্রত্যেকের জীবন যেন একেকটি সংগ্রাম আর কষ্টের কাব্যগাঁথা। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে উঠে এসে চমকপ্রদ ফলাফলের কারণে স্বভাবতই শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি সবাই দারুন খুশি।

এবার প্রথম বারের মত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দক্ষিন বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৮৮ শতাংশ। যা উপজেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৬৬জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৫৮জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অপর শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরোজের বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। মৃত্যুর আগে রাজমিস্ত্রি কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাব অনটনের সংসারে বইপত্র কেনার সামর্থ্যও তাদের ছিল না। আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় চলত তার লেখাপড়া।

সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘বিদ্যুতের বিল বেশি আসার ভয়ে ঘরে অনেক সময় বেশিক্ষন আলো জ্বালিয়ে পড়া সম্ভব ছিল না। মাঝে মধ্যে কুপি জ্বালিয়ে পড়ালেখা করতে হতো। অনেক সময় তেলের অভাবে কুপিও জ্বালানো যেত না। টিফিন ছুটিতে না খেয়েই থাকতে হতো। তবু ভেঙে পড়িনি।’ উপজেলার বৈরাগ গ্রামের এই অদম্য মেধাবীর সাফল্যের খবর শুনে চোখের পানি আটকাতে পারেনি প্রতিবেশীরা।
জিপিএ-৫ পাওয়া সামিয়া জামান নামে অপর শিক্ষার্থীর পিতা জাহিদ হোসেন টিংকু ক্ষুদ্র আসবাবপত্র ব্যবসায়ী। উম্মে ফাতেমা রেশমীর পিতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, মা এনজিও সংস্থার মাঠকর্মী,।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, ‘গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের সবসময় স্কুল থেকে বিশেষ সহযোগিতা দেয়া হয়। তারা আমাদের মুখ উজ্বল করেছে। স্কুল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, পাড়াগাঁয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানেরাও ফলাফলে চমক দেখাতে পারে। দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ অদম্য শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ প্রাপ্তির মাধ্যমে সেটা করে দেখিয়েছে।

সারাবেলা/এনএম/এডি