শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ৭ সীমাবদ্ধতা

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ০৯:২০ এএম

ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ৭ সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের প্রায় ২০ শতাংশই ইসলামি বা শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং। তবে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে এ খাতের ব্যাংকগুলো।

বৈচিত্র্যময় পণ্যের অভাব, গ্রাহকবান্ধব সেবার অভাব, অপর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তির অভাব, বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্যের অভাবসহ সাত ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে। এছাড়া জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অপপ্রচার ইসলামি ব্যাংকিংয়ের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা দ্রুত প্রসার লাভ করলেও সাত ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এই খাতের ব্যাংকগুলো। ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রাহকবান্ধব সেবার অভাব রয়েছে। রয়েছে অপর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তির অভাব, বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্যের অভাব, শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং নিয়ে ব্যাংকগুলোর গবেষণা ও উন্নয়নে কম মনোযোগ, শরিয়াহ্ কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বা মিল না থাকা এবং ইসলামি ব্যাংকিং ও অর্থায়নের বিষয়ে শিক্ষার অভাব।

শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং সব দিক দিয়েই লাভজনক। সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকে মানুষের আস্থাও বেশি, কেননা শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং মূলত ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে। তবে অনেকে এ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের ধোঁকা দিচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

বিআইবিএমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে আটটি ব্যাংক পুরোপুরিভাবে ইসলামি ব্যাংকিং করছে। ব্যাংকগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া ১৭টি ব্যাংক শাখা বা উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং পণ্যসেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছাড়া বাকি ব্যাংকগুলো এই সেবা চালু করতে সক্ষম হয়েছে। শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বাংলাদেশ বিশ্বের ১০ নম্বরে রয়েছে, যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুদান ও ইরান। তারা শতভাগ ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় চলছে। শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে সৌদি আরবের অবস্থান চতুর্থ।

এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের উন্নয়ন করতে হলে ইসলামি ব্যাংকিং আইনের উন্নয়ন করতে হবে, যাতে সব শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক এক প্ল্যাটফর্মের নিচে আসতে পারে।

সাধারণ ব্যাংকিং ও ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মধ্যে আর্থিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে সাধারণ ব্যাংকিংয়ে নেট প্রফিট মার্জিন যেখানে এক দশমিক ৯, সেখানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে তিন দশমিক ছয় শতাংশ। একইভাবে মোট সম্পদের বিপরীতে সাধারণ ব্যাংকিংয়ে আয় পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ। অন্যদিকে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে সাত দশমিক তিন শতাংশ। ইসলামি ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণের হারও অনেক কম। ২০১৬ সালে অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণের হার যেখানে ৯ দশমিক দুই শতাংশ, সেখানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে চার দশমিক তিন শতাংশ।