ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কর্ণফুলী টানেলের ২০ প্রকৌশলীর নিরাপত্তায় চিঠি

আনোয়ারা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০১৮ রবিবার, ০৭:৫৪ এএম

কর্ণফুলী টানেলের ২০ প্রকৌশলীর নিরাপত্তায় চিঠি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের টিম

কর্ণফুলী থানাধীন রাঙ্গাদিয়ায় ৬ বিদেশী প্রকৌশলী আক্রান্তের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। টানেল প্রকল্পে কর্মরত বিদেশীদের নিরাপত্তায় এতদিন কোন ধরনের হুমকি না দেখলেও শুক্রবারের ঘটনার পর এক যোগে মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষ টিম। চীনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিদেশী প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠির প্রেক্ষিতে সার্বিক তদন্তে দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন সেতু বিভাগের ৩ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টিম। কাফকো ফ্যাক্টরি গেট ও পারকি সমুদ্র সৈকতের মাঝামাঝি মাঝের চরে ৮৫ একরের একটি জায়গার ভরাটের পরিকল্পনা করতে গিয়ে প্রকৌশলীরা দুর্বৃত্তের কবলে পড়েন বলে তথ্য পেয়েছেন ঢাকা থেকে আসা বিশেষ টিমের সদস্যরা। দুর্বৃত্তরা এখানকার নির্জন স্পটে ওঁৎ পেতে ছিলেন।

সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে আসা তদন্ত টিমের সদস্যরা বেলা ১টার মধ্যে কর্ণফুরী থানাধীন রাঙ্গাদিয়া এলাকার ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এই টিমে ছিলেন কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক ড. অনুপম সাহা, নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে আজাদ, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান। ভ’মি প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা পরিষদ সদস্য এস এম আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বটতলী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক এম এ মালেক, বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্, চাতরি ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তদন্ত টিমের সদস্যরা। এসময় তারা নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।

যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের তদন্ত টিমের প্রধান ড. অনুপম সাহা শনিবার রাতে জানান, চীনা প্রকৌশলীদের সঙ্গে এমন গর্হিত ঘটনা সবাইকে মর্মাহত করেছে। মাঝের চরে ৮৫ একর জমি ভরাট করে সেখানে টানেল প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের বিষয়টি দেখভাল করছিলেন প্রকৌশলীরা। নির্জনে পেয়ে তাদেরকে টার্গেট করে সর্বস্ব কেড়ে নেয দুবৃৃত্তরা। তিনি বলেন, সেতু বিভাগের অধীনে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে সাইট ডেভেলপমেন্টের কাজ করছে চায়না কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিসিসি)। আক্রান্ত ছয় প্রকৌশলী এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। সব মিলিযে এই কোম্পানিতে টানেল প্রকল্পে ২০ বিদেশি কাজ করছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে চায়না কনস্ট্রাকশন থেকে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এমনিতে বিদেশীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে তিনি জানান।

তদন্তে অগ্রগতি প্রসঙ্গে কর্ণফুলী থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফা জানান, রাতে মামলা রেকর্ড হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ এর মধ্যে সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান শুরু করেছে।

স্থানীয় অন্য একটি সূত্র জানায়, শনিবার আনোয়ারার পশ্চিমচাল থেকে স্থানীয়রা সন্দেহজনক একজনকে ধরে আক্রান্ত প্রকৌশলীদের সামনে হাজির করলেও তাকে সনাক্ত করা যায়নি। সন্ধ্যায় সন্দেহজনক আরেকজনকে আটকের খবর পাওয়া গেলেও রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে পারকি ও কাফকো ফ্যাক্টরির মাঝামাঝি মাঝের চর এলাকায় প্রকল্পের সাইট অফিস, আবাসস্থল ও যন্ত্রপাতি রাখার জন্য মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। ভাটার সময় প্রকৗশলীরা সাগরের কাছাকাছি গিয়ে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে কাফকো গেটের কাছের টানেল প্রকল্প কাজ তদারকির সময় দুর্বৃত্তের হাতে আক্রান্ত হন ৬ চীনা প্রকৌশলী। তাদের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, মূল্যবান কাগজপত্র নিযে যায় দুবৃৃত্তরা। এ সময় এক প্রকৌশলীকে মারধরও করা হয়।