সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার, ০৮:৩৮ এএম

অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ

অপারেশন থিয়েটারেই ব্যবহৃত হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ। নগরীর অন্যতম অভিজাত বেসরকারি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে এমনই ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রি পেয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মঙ্গলবার ওআর নিজাম রোডের এই হাসপাতালে অভিযান চালায়।

অভিযানে অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে সেবাগ্রহীতারা রোগমুক্তির বদলে উল্টো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন  বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ এসব চিকিৎসা সামগ্রী মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অপারেশন থিয়েটারের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে রোগীর মৃত্যুর শঙ্কা রয়েছে। বেঁচে থাকলেও ওই রোগী শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যেতে পারে।

খাদ্যে ভেজাল নিয়ে দেশব্যাপী তুমুল হৈচৈ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। অভিযানও চলছে সমানে। এর মাঝে আবার অভিযান চালাতে হচ্ছে ভেজাল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে। হাতেনাতে প্রমাণ মিলছে, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের নামে ভেজাল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কীভাবে অবলীলায় ব্যবহার করে বেশি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে চলেছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন বলেন, ভেজাল খাদ্য খেয়ে অসুস্থ মানুষ সুস্থ হতে যে ওষুধ নেবে, সেই ওষুধও এখন আর নিরাপদ নয়। অধিক মুনাফা লোভী একটি অসাধু চক্র জনস্বাস্থ্যকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিপন্ন করে তুলছে মানুষের জীবনকে।

অর্থ–সম্পদ খরচ করে যে মৃত্যুকে ঠেকানোর জন্য রোগাক্রান্ত মানুষের আকুল প্রচেষ্টা, সেই মৃত্যুকেই যে আহবান করা হচ্ছে ওই সব বিপজ্জনক ওষুধ সেবন করে তা অনেক হতভাগ্য রোগী ও তাদের অভিভাবকদের অজানা থেকে যায়। অভিভাবকরা বুঝতেও পারেন না, এসব নকল–ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিভাবে অসুস্থ প্রিয়জনটিকে ধীরে–ধীরে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন অভিযান চালায় নগরীর ও–আর নিজাম রোডে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে। অভিযানেই ধরা পড়ে অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত হচ্ছে ছয় মাস এমনকি এক বছর আগের ওষুধ।

এছাড়া হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্যাথলজিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রিঅ্যাজেন্ট ব্যবহার এবং ওষুধ সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করার অভিযোগও পাওয়া যায়। সঙ্গে সনদবিহীন অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে এক্সরে পরীক্ষাতো আছেই। এছাড়া ফার্মেসিতে যে ওষুধ সংরক্ষণ করা হচ্ছে তা ২৫ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রার নিচে রাখার নির্দেশনা থাকলেও ওষুধগুলো ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা আছে। এসব অভিযোগে হাসপাতালটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া জানান, আমাদের সঙ্গে থাকা মেডিকেল অফিসার এবং সিভিল সার্জন চিটাগাং এর প্রতিনিধি ড. রায়হান জানিয়েছেন, এসব ওষুধ অপারেশনে ব্যবহার করা হলে রোগীর মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ক্লিনিকটিতে ল্যাবেরটারির পরীক্ষাগারে পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত রিঅ্যাজেন্টও মেয়াদোত্তীর্ণ। আমরা সব মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিঅ্যাজেন্ট জব্দ করেছি।