শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২

গাড়ি ও ব্যক্তি ঋণে বাড়তে পারে সুদের হার

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০২২ বুধবার, ১০:৩০ পিএম

গাড়ি ও ব্যক্তি ঋণে বাড়তে পারে সুদের হার

ভোক্তা খাতের আওতায় গাড়ি ও ব্যক্তিগত খাতের ঋণে সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলো এ দুই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ হারে ঋণ বিতরণ করতে পারবে, যেক্ষেত্রে আগে ৯ শতাংশে হারে ঋণ দিতে পারত।তবে এই সিদ্ধান্ত নতুন ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মৌখিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে অর্থ সরবরাহ কমনোর চেষ্টা করছে। সে হিসেবে এ দুটি খাত বেছে নেয়া হয়েছে। আশা করি এ সিদ্ধান্ত অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ কোনো মন্তব্য করেননি।

২০২০ সালের এপ্রিলে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার বাড়ানো বা ক্যাপ তুলে দেয়ার জন্য বরাবরই বলে আসছেন অর্থনীতিবিদেরা। তারা বলেন, অর্থনীতির ওপর এখন যেভাবে চাপ তৈরি হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে সুদহার বেঁধে রাখা ঠিক হচ্ছে না। এ ছাড়া ব্যাংকে আগের মতো উদ্বৃত্ত অর্থও নেই। মানুষ আমানত তুলে নিচ্ছে। জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সীমিত আয়ের অনেকেই সঞ্চয় হারিয়েছে বা ভেঙে খাচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে আবার আমদানি ও রেমিট্যান্স দায় নিষ্পন্নের জন্য নিয়মিত ডলারও কিনতে হচ্ছে। তাই তাদের সব কাজে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। তাদের সুদহার বাড়িয়ে আমানত সংগ্রহ করতে হবে। একইভাবে অন্যদেরও ঋণের সুদহার বাড়াতে দিতে হবে। তাই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির মধ্যে ঋণের সুদহার না বাড়ানোর কারণেই মূল্যস্ফীতি বরং বৃদ্ধি পাচ্ছ।

এছাড়া সম্প্রতি আইএমএফও ঋণের সুদহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে আমানতের সুদহারে কোনো সীমা নেই। এটি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশনা রয়েছে। আর এ মুহূর্তে সুদহার সীমা তুলে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঋণের সুদহারের সীমা একেবারে তুলে দিলে ব্যাংকের আয় বাড়লেও ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ বাড়বে। ব্যবসার খরচ বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। তেলের দর বৃদ্ধির পর এমনিতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

এর আগে কভিডকালে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াতে ২০২০ সালের অক্টোবরে ভোক্তাঋণে উৎসাহ দিতে প্রভিশন সংরক্ষণে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে ভোক্তা খাতে অশ্রেণিকৃত বা ভালো ঋণে পাঁচ শতাংশ নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হতো, যা ২০২০ সালের অক্টোবরে কমিয়ে দুই শতাংশ করা হয়। তবে দুই বছরের মাথায় এসে ফের ভোক্তাঋণের লাগাম টানতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই ভোক্তাঋণের দুই খাতে ঋণের সুদহার বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করা হয়।

এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ভোক্তাঋণের দুটি খাতে সুদহার বাড়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা ভালো চিন্তাধারা। তবে এটা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি, কিভাবে কী করতে হবে। যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, এটা নতুন লোনের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। আর নতুন লোনের ক্ষেত্রে হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুবিধা হবে না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি ব্যাংকের আরেক এমডি  বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারভিত্তিক একটা প্রক্রিয়ায় যাওয়ার চিন্তা করছে, এটাকে সাধুবাদ জানাই। এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত।

সূত্র-শেয়ার বিজ