বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

ব্যবসায়ীদের জন্য আরো প্রণোদনা চাইলেন তরফদার রুহুল আমিন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২১ সোমবার, ০৯:০২ পিএম

ব্যবসায়ীদের জন্য আরো প্রণোদনা চাইলেন তরফদার রুহুল আমিন

করোনা পরবর্তী ব্যবসায়িক সংকট মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের কাছে আরো প্রণোদনার চাইলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন। গতকাল সোমবার (৩১ মে) সকালে  ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালের তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২১-২০২২ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

বাজেট সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন-বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ব্যবসায়ীরাই মূলতঃ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। বর্তমান বিশ্ব মহামারীর কারণে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সব ধরণের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হয়েছেন। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে সব ধরণের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করোনা সংক্রান্ত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত বছর তিন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং এ বছর প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট এর কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে লকডাউন চলছে। তাই কলকারখানা চালু রেখে পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হলেও বিক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে কর্মী ছাঁটাই করতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে গতবারের ন্যায় বা তার চেয়েও বেশী পরিমাণে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আহবান জানান।

তরফদার মোঃ রুহুল আমিন বলেন-বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্যাক্স, ভ্যাট ইত্যাদিতে কোন ছাড় না থাকলেও ঋণের সুদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ ব্যাংক ঋণ গ্রহীতাদের ক্লাসিফাইড না করার সময়সীমা আগামী ডিসেম্বর-২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করার জন্য সরকারের নিকট অনুরোধ জানান। লীজিং কোম্পানীর ক্ষেত্রেও একই ধরণের বিধান প্রযোজ্য। কোন উদ্যোক্তার পাঁচটি শিল্প কারখানার মধ্যে একটি শিল্প কারখানা রুগ্ন হলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ঋণ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা বাতিল করে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট রুগ্ন শিল্প ব্যতিরেকে একই গ্রুপের অন্যান্য শিল্পে ঋণ প্রবাহ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ২০০ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিবেচনায় দেশীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিতে হবে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর আদায় করা হলেও পরবর্তীতে তা যথা সময়ে সমন্বয় করা হয় না। ফলে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের শত শত কোটি টাকা এনবিআরের তহবিলে জমা থেকে যায়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে চলতি মূলধনের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই অগ্রিম কর যথাসময়ে সমন্বয় করা এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত কর শিল্প প্রতিষ্ঠানকে যথা শীঘ্রই সম্ভব ফেরত প্রদানের জন্য এনবিআরের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানান। লাভ-লোকসান নির্বিশেষে টার্ণওভারের ভিত্তিতে ন্যূনতম কর আদায় করার বিধান রহিত করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। যেমনঃ ৩ কোটি টাকার বেশী লেনদেন হলে ০.৫% কর দেয়ার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার জন্য চেম্বার সহ-সভাপতি দাবী জানান। জীবনযাত্রার মান ও ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজেটের আকার বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।

বিদেশে বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন-বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করার জন্য বৈধ পথে দেশ থেকে কোন মূলধন নিতে পারেন না। অথচ ঐসব দেশে তাদের ব্যবসায়ী হিসেবে আরো অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী রাজস্ব চট্টগ্রাম কাস্টমস’র মাধ্যমে আদায় করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রামকে সরকারিভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকরূপে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করার দাবী জানান। এর আকার বৃদ্ধি পেলেও তা পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজেট যথাযথ বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

দেশের অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। তা না হলে সারা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বে-টার্মিনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে ব্রেক ওয়াটার সিস্টেম করতে তিন চার হাজার কোটি টাকা লাগবে। বাংলাদেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বিদেশীদের সাথে নিয়ে সরকারি যথাযথ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই পণ্য উৎপাদন করে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করে। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অসাধু পথে ব্যাটারী উৎপাদন করে বাজারজাত করছে যা ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরণের অবৈধ প্রয়াস রোধকল্পে ভিজিল্যান্স টিম পরিচালনার অনুরোধ জানান চেম্বার সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে বন্দর থেকে প্রতিদিন চার হাজার কন্টেইনার লোড আনলোডিং কার্যক্রম চলে। যার কারণে রাস্তাঘাটে প্রচুর ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। এতে ব্যবসায়ীদের কর্ম সময় নষ্ট হচ্ছে। বে -টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন করতে হলে আগে ব্রেক ওয়াটার তৈরি করতে হবে। আশা করছি খুব শীঘ্রই সকল কাজ সম্পন্ন হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন , সময়ের সাথে সবকিছুই পরিবর্তন করতে হয়। আবহাওয়ার এর উপর নির্ভর করে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হয়। জেটি যেগুলো নতুনভাবে তৈরি করা হবে সেগুলো যাতে দুর্যোগের কথা মাথা রেখেই তৈরি করা হয়।