রোববার, ১৬ মে ২০২১

কঠোর লকডাউনেও খোলা থাকবে ব্যাংক

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার, ০৮:৫৮ পিএম

কঠোর লকডাউনেও খোলা থাকবে ব্যাংক

`ঢিলেঢালা‘ লকডাউন থেকে `কঠোর‘ লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। আগামী বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাওয়া এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, যানবাহন, দোকান-মার্কেট বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও জরুরি সেবা বিবেচনায় ব্যাংক খোলা রাখার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, জরুরি সেবা বিবেচনায় ব্যাংক খোলা রাখার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে পুরো লেনদেন সময় নয়, চালু থাকবে সীমিত আকারে। আগামী রোববার লকডাউনের বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের  মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘ব্যাংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা। এ সেবা দিতে আমরা বাধ্য এবং এটা চলমান রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ সংকটের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রাখতে হবে। কারণ, মানুষ ব্যাংকিং লেনদেন না করতে পারলে অন্যান্য সংকটে পড়বে। চিকিৎসার জন্যও ব্যাংকের টাকা দরকার। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে, কোন কৌশলে ব্যাংকিং সেবা দেয়া যায় সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

চলমান লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম চলছে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। ৩ এপ্রিল লকডাউনে ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে এক সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের তুলনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবশ্য আরও একটু বেশি সময় খোলা থাকছে। সেগুলোতে লেনদেন চালু থাকছে বেলা দুইটা পর্যন্ত।

কঠোর লকডাউনেও একই সময়সীমা থাকবে কি না- এমন প্রশ্নও ছিল সিরাজুল ইসলামের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘রোববার সরকারের নির্দেশনা জারি হওয়ার পর কীভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাব।’

তবে পূর্ণাঙ্গ সময়ের জন্য না, ব্যাংকে লেনদেন সীমিত আকারে লেনদেন চালু রাখা হবে-এটি নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তা।

আগামী সপ্তাহে থেকে এক সপ্তাহের জন্য জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান এমনকি সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রেখে কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে দেশ।

ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে নির্ভর করে পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু থাকবে কি না। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আগেই জানিয়েছে, ব্যাংক চালু থাকলে বন্ধ হবে না পুঁজিবাজারও।

গত সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিন থেকেই শিথিল লকডাউনের তৃতীয় দিন থেকে দেশের সব মহানগরে চালু করে দেয়া হয় বাসও। অন্যান্য যানবাহন চলছে প্রথম দিন থেকেই।

এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিদিনই রেকর্ড করতে থাকায় সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানানো হয়েছে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হবে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এটা কমপ্লিট লকডাউন, কঠোর লকডাউন। ফলে কোনো অফিস আদালত খোলা থাকবে না। সেখানে শুধু জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছুই বন্ধ থাকবে।’

লকডাউনের এক সপ্তাহ সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইব যে, এই এক সপ্তাহ মানুষজন একদম ঘরে থাকবে। সেভাবে মানুষ প্রস্তুতি নিয়ে থাকবে। এক সপ্তাহ কঠোরভাবে লকডাউন মেনে চলবে।’