বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

বউকে খুশি করতে মিথ্যা বলেছিলেন মামনুল !

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৮:২৯ পিএম

বউকে খুশি করতে মিথ্যা বলেছিলেন মামনুল !

হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেছেন, ‘ইসলাম অনুযায়ী স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে বা খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে কোনও সত্য গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রিসোর্টের কাণ্ড ও তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, ব্যক্তিগত অসাবধানতার কারণে তার ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। সেজন্য তিনি মর্মাহত।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি এমন কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করেছি। ইসলামে একজন মুসলমানকে ৪টি বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশীয় আইনেও ৪ বিবাহের প্রতি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নিরুৎসাহিত করা হয়নি। তাহলে আমি যদি ৪টি বিবাহও করি, তাতে কার কী?।  আমি একাধিক বিবাহ করেছি, সেই বিবাহ করা শরিয়ত-সম্মত বৈধ অধিকার। সেটি আমার নাগরিক অধিকার। যদি আমার একাধিক বিবাহের ওপর কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকে, সেটি থাকবে পরিবার ও স্ত্রীদের। যদি একাধিক বিয়ে করে স্ত্রীদের অধিকার বঞ্চিত করে থাকি, তাহলে অবশ্যই তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কি দেখাতে পারবে কোনো স্ত্রী কোথাও আমার বিরুদ্ধে এতোটুকু অভিযোগ করেছেন, আমি তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, স্ত্রীদের অধিকার নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার কী ধরনের সম্পর্ক হবে এবং কোনো স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের পরিধি কতটুকু পর্যন্ত জানাবো এবং কতটুকু পর্যন্ত জানাবো না, সেটি আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এখতিয়ার। যারা এ বিষয়ে আমার ওপর আক্রমণ করছেন, আমি মনে করি তারা আমার নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন।’

‘একাধিক বিয়ে করার ক্ষেত্রে স্ত্রীকে কীভাবে ম্যানেজ করব, কোন কথা দিয়ে প্রবোধ করব, তার সঙ্গে কোন পরিস্থিতিতে কোন কথা দিয়ে সান্ত্বনা দেবো সেটিও ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইসলামি শরিয়তে মধ্যেও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, স্ত্রীকে সন্তুষ্ট এবং খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে। কাজেই সেই বিষয়ে কোনো অভিযোগ থেকেও থাকে সেটি থাকবে একান্ত স্ত্রীর। আমি জানতে চাই, আমার স্ত্রী কি আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে অভিযোগ করেছেন। তাহলে কেন কিছু মানুষ আমার স্ত্রীর অধিকার নিয়ে আমাকে ঘায়েল করবার চেষ্টা করছে।’

মামুনুল হক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আমার চরিত্র হননের জন্য, শুধু ব্যক্তিগত গোপন ফোনালাপ ফাঁস করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। এত এত ফোনালাপ যে ফাঁস হচ্ছে, কোনো একটি ফোনালাপ থেকে কি প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, জান্নাত আরা ঝর্ণা অন্য কারও বিবাহিত স্ত্রী? অথবা এই কথা কি আপনারা প্রমাণ করতে পেরেছেন, তিনি আমার বিবাহিত স্ত্রী নন? বরং যতগুলো তথ্য প্রমাণ আপনারা ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন, সবগুলোর মাধ্যমে এই কথাই দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে যে, জান্নাত আরা ঝর্ণা আমার বিবাহিত স্ত্রী। সুতরাং, আমার দ্যর্থহীন বক্তব্য— আপনারা যারা আমার ব্যক্তিগত গোপন তথ্যগুলোকে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য আচরণগুলোকে যারা প্রচার করেছেন, তাদেরকে বলছি, আমি কীভাবে আমার স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলব, সেটা আমার ধর্মীয় এবং নাগরিক অধিকার। সে বিষয়ে অন্য কাউকে নাক গলানোর সুযোগ ধর্ম, সমাজ ও আইন-আদালত দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার বিরুদ্ধে কেন এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হলো?

রাষ্ট্রযন্ত্র, আদালত ও প্রশাসনে এই যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এর মূল লক্ষ্য ইসলামের পক্ষে আমার কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেওয়া। এর পরে হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীলদের গোপন রেকর্ড ফাঁসের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, এর মাধ্যমে অশুভ উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা চাচ্ছে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বকে কলুষিত করতে। অন্তর্দ্বন্দ্ব ও কলহ তৈরি করতে। আস্থা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, হেফাজতে ইসলামের সংহতি দৃঢ়ভাবে অটুট থাকবে। পারস্পরিক এ ভেদাভেদ আমরা ভুলে যাব। কেউ কোনো দোষ করে থাকলে সাংগাঠনিকভাবে তার সংশোধনের যথাথ ব্যবস্থা করা হবে। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছে, তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। যারা হেফাজতে ইসলামকে দুর্বল করার পাঁয়তারা করছেন এই ষড়যন্ত্র সফল হবেন না।’

স্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বলেন, ‘স্ত্রীদের সঙ্গে কথোপকথন একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত বিষয়কে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। যারা এটি করেছেন আমি অনতিবিলম্বের তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। যারা এ অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন তারা আমার ও জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’

গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন ‘স্থানীয়রা’। তখন সঙ্গে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি বাধে নাম নিয়ে। মামুনুল স্ত্রীর নাম আমেনা তাইয়্যেবা বললেও ওই নারী জান্নাত আরা ঝর্না বলে নিজের নাম উল্লেখ করেন। যদিও পরবর্তী সময়ে জানা যায়, মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রীর নাম আমেনা তাইয়্যেবা। কিন্তু কবে, কীভাবে, কখন তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে এ বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো কথা এখনও বলেননি মামুনুল হক।

মামুনুল আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অসাবধানতার কারণে যে ক্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে যে ক্ষতির সম্মুখীন ব্যক্তিগতভাবে হয়েছি; সেজন্য নিজেই মর্মাহত। আমার কারণে আজকে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের কাছে আমি হাত জোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’