বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১

করোনা টিকা নিতে শহরে বেশি আগ্রহ

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৯:১৬ এএম

করোনা টিকা নিতে শহরে বেশি আগ্রহ

চট্টগ্রামে করোনা টিকা গ্রহণে শহরের মানুষের আগ্রহ বেশি। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরুর পর গত তিন দিনে ১১ হাজার ৩৭ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ হাজার ১৩৩ জন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। বাকি ৪ হাজার ৯০৪ জন চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরুর পর এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৪৯ হাজার ৯৩১ জন করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এদের মধ্যে ১১ হাজার ৩৭ জন করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দিন নিয়েছেন এক হাজার ৯০ জন, দ্বিতীয় দিন নিয়েছেন ৩ হাজার ৮৮৮ জন এবং সর্বশেষ আজকে নিয়েছেন ৬ হাজার ৫৯ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া ৬ হাজার ৫৯ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৩২ জন নগরীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে নিয়েছেন। বাকি ৩ হাজার ২৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিন নেন। এর মধ্যে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েছেন ৩৯৯ জন, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১০ জন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪০ জন, মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ২৯০ জন, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬০ জন, ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ জন, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১০ জন, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫৩ জন, সীতাকুণ্ড  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০৭ জন, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২৯ জন, চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪৬ জন, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮৯ জন, সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯০ জন এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫৪ জন করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

এর আগে গত রবিবার (৩১ জানুয়ারি) চার লাখ ৫৬ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। বেক্সিমকো ফার্মার একটি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে পাঠানো ওই ভ্যাকসিনগুলো ওইদিন সকাল ৭টায় চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। এরপর ভ্যাকসিনগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভ্যাকসিন প্রেরণ করা হয়। এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হয়।
সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রাথমিকভাবে নগরীর ১৫টি টিকাদান কেন্দ্রে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে।

নগরীর ১৫টি টিকাদান কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে—নগরীর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সেনানিবাস হাসপাতাল, চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম নৌ-বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বিমান বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, চসিক বন্দরটিলা হাসপাতাল, চসিক মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতাল, চসিক ছাপা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল, ইউএসটিসি হাসপাতাল, সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

কোভ্যাক্সের বিনামূল্যের টিকাও আসছে এ মাসে

নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক ভ্যাকসিন জোট ‘কোভ্যাক্স’ থেকে বিনামূল্যে পাওয়া ভ্যাকসিন ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশে আসছে। এ মাসের শেষের দিকে এই জোট থেকে এক লাখ ৩১ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে, যা পাওয়া যাবে বিনামূল্যে।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান। এসময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের ভয়-ভীতি দূর হচ্ছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার ঝামেলা নেই। গতকাল (সোমবার) পর্যন্ত ৭৮ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৬ লাখ মানুষ।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ বলেন, তৃতীয় দিনের মতো সারাদেশে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম চলছে। রাজধানীতে ভ্যাকসিন নিতে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

বিভিন্ন স্থানে ভ্যাকসিনের অপচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্যাকসিনের অপচয় এখনো ১০ শতাংশ ছাড়ায়নি। ১০ শতাংশ অপচয় ধরেই ভ্যাকসিন আনা হয়েছে।

এর আগে, ৪ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, কোভ্যাক্স থেকে ভ্যাকসিন পাওয়ার বিষয়টি আগেও গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তারা সম্প্রতি এক চিঠিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। কারণ এরই মধ্যেই আমাদের দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন এসেছে। ফাইজার-বায়োএনটেকের যে ভ্যাকসিন, সেটি সংরক্ষণের জন্য সমস্যায় পড়তে হতো। এখন যেহেতু অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আসছে, সেটি ভালোই হলো।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্ম হলো কোভ্যাক্স, যা গঠিত হয়েছে বিশ্বের সব মানুষের সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক পাওয়া নিশ্চিত করতে।