রোববার, ১৬ মে ২০২১

ভোটে সহিংসতা-সংঘাত, নিহত ১

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৮:১০ পিএম

ভোটে সহিংসতা-সংঘাত, নিহত ১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই শঙ্কা আগেই ছিল। ভোটের আগে প্রচারের সময় দুজনের মৃত্যুও হয়েছিল। এ কারণে ভোটের দিনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছিল বড় ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। সিটি এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ভোটের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও ভোট দিয়ে সহিংসতা ঠেকানো যায়নি।

ভোটগ্রহণের শুরুতেই খুলশি থানার আমবাগান ও পাহাড়তলী সরাইপাড়া ওয়ার্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুইজন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটের সংঘাতে আহত আরো অন্তত অর্ধশত লোক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্ত মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত অবস্থা আগের নির্বাচনগুলোতে ছিল। ভোটের দিন ‘ভোট উৎসবের’ মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা আগে কবে ঘটেছিল, সে কথা মনে করতে পারেন না অনেকেই। বিশেষ করে ২০১০ ও ২০১৫ সালের দুটি নির্বাচনে কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ের মতো ঘটনা ঘটেনি। ২০০৫ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের দিন নিহত হয়েছিলেন শ্রমিক লীগের এক কর্মী। এর আগে ১৯৯৪ সালে প্রথম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচন ঘিরে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ২৭ বছরের ইতিহাসে এবার ভোটের দিন মৃত্যুর ঘটল। 

আমবাগান ও সরাইপাড়ায় দুই মৃত্যু ছাড়াও পাথরঘাটায় ভোট কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। পাথরঘাটায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েক শ উত্তেজিত নারী-পুরুষ ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা ইভিএম মেশিন, কেন্দ্রের দরজা-জানালা ও নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হলে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডেও পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি–সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেখানে তিনজন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থনে পুলক খাস্তগির এবং বিএনপির সমর্থনে মো. ইসমাইল কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী সকাল পৌনে ৯টার দিকে বহদ্দারহাটের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন । তার বাড়ির পাশের কেন্দ্র এটি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ নেতারা। এ সময় তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন সকাল ১০টার দিকে নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে বিএড কলেজের প্রশাসনিক কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। সবগুলো কেন্দ্র ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা দখলে নিয়েছে।

চসিকের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে কদম মোবারক ইএমওয়াই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম ভোট দিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন,‘ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছি। এখানে যা দেখলাম, জাল ভোট দেওয়ার বা জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। যার ভোট সেই একমাত্র দিতে পারবে। নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য হবে। আমাদের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী অবশ্যই বিজয়ী হবেন।’

গত বছরের ২৯ মার্চ চসিকের এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সেই নির্বাচন ১০ মাস পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। প্রথমবারের মতো পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট নেওয়া হচ্ছে এই নির্বাচনে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত জন। আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি প্রতীকে খোকন চৌধুরী, চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম, নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী ও ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন।

নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে মেয়র এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ হলেও সাধারণ কাউন্সিলর পদে দু’টি ওয়ার্ডে নির্বাচন হচ্ছে না। এর মধ্যে ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হারুনুর রশীদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছেন। ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী তারেক সোলায়মান সেলিম সম্প্রতি মারা গেছেন। এর ফলে ওই ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

সাধারণ ও সংরক্ষিত মিলিয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন ২২৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। এর মধ্যে ৩৯ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বদ্বিতায় আছেন ১৬৯ জন। বাকি দুই ওয়ার্ডে ওই পদে নির্বাচন হচ্ছে না। সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ৫৭ জন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন। মহিলা ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন।

খুলশিতে নিহত ১

নগরের খুলশী থানার ইউসেপ আমবাগান কেন্দ্রে সরকারদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদুর রহমানের সমর্থকদের সংঘর্ষে আলাউদ্দিন আলো (২৮) নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়।

খুলশি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফতাব হোসেন এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ইউসেপ আমবাগান টেকনিক্যাল স্কুল কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পথচারী আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় দু’পক্ষের গোলাগুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নিহত আলাউদ্দিন কুমিল্লা জেলার সুলতান মিয়ার ছেলে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরাইপাড়ায় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন
 সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে (সরাইপাড়া) নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আরেক ভাই নিহত হন। নিহত নিজামউদ্দীন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের (সরাইপাড়া) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের কর্মী বলে জানা গেছে। ঘাতক সালাউদ্দিন কামরুল ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের কর্মী।

ছোট ছেলেকে খুনের জন্য বড় ছেলের ফাঁসি চান তাদের মা। মা জিন্নাত আরা বেগম বলেন, `আমার ছেলের ফাঁসি চাই। ও প্ল্যান করে খুন করেছে। আমার বউমা বোবা, কথা বলতে পারে না। তার মাসুম দুই সন্তানের কী হবে?।` তিনি বলেন, দুই ভাই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছিলেন। পারিবারিক জায়গা নিয়েও বিরোধ ছিল। আমার ছেলের খুনের জন্য আমার আরেক ছেলে কামরুল দায়ী। আমি তার ফাঁসি চাই। তিনি আরও বলেন, আমার বড় নাতি ইমন দেখছিল নিজাম ভাইয়ের পা ধরে বলছিল মাফ করে দাও। কিন্তু সে মাফ করেনি। খুন করে ফেলেছে।
নিহত নিজামের স্ত্রী নাসরিন আকতার সুমি বাকপ্রতিবন্ধী। তার ছেলে ইব্রাহিমের বয়স মাত্র ৮ মাস। মেয়ে বিবি মরিয়মের বয়স আড়াই বছর। নাসরিন আকতার সুমি নিজের ভাষায় বলার চেষ্টা করছিলেন সব ঘটনা। বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তার মা ও শাশুড়ি। সুমি জানান, অনেক দিন ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার করে আসছিল কামরুল। হত্যার হুমকিও দিয়েছিল।

বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী আটক
কয়েকটি কেন্দ্রে মারামারির ঘটনার পর ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ ইসমাইল বালীকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে ইসমাইল বালীকে আটক করা হয়।   উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান জানান, দুপুর ১২টার দিকে পাথরঘাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার লাইনে হামলা, বিশৃঙ্খলা ও ভোটগ্রহণে ব্যবহৃত ইভিএম মেশিন ভাঙচুরের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।

লালখান বাজারে দুই পক্ষে মারামারি 
১৪ নম্বর ওয়ার্ড লালখান বাজার এলাকায় আওয়ামী সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল এবং মনোনয়ন বঞ্চিত দিদারুল আলম মাসুমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সকাল ৯টার দিকে লালখান বাজার শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এসময় পাথর নিক্ষেপ ও লাঠি নিয়ে হামলায় জড়ায় দুই পক্ষ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার বশির আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্রের বাইরে গণ্ডগোল হয়েছে। তবে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে কোনো সমস্যা নেই।’

আওয়ামীলীগের ৩ কর্মী আহত হওয়ার দাবি :
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির হামলায় তিন কর্মী আহত হয়েছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা করছে।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বাবুল এ দাবি করেন।

ইব্রাহিম হোসেন বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে বিএনপির জনভিত্তি নেই। তারা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালায়। কিন্তু ভোটের দিন মাঠে থাকে না। এটা তাদের কৌশল।তিনি বলেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখে বিএনপি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বহিরাগতদের নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরিকল্পিতভাবে হামলা করছে। তবে তাদের অপচেষ্টা সফল হবে না।

জনসমর্থনহীন বিএনপি এজেন্টও দিতে পারেনি : রেজাউল
জয়ের প্রত্যাশা করলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল যাই হোক তা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। সকাল পৌনে ৯টার দিকে বহদ্দারহাটের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন রেজাউল করিম চৌধুরী। তার বাড়ির পাশের কেন্দ্র এটি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ নেতারা।

ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তবে জয়-পরাজয় যাই হোক মেনে নেব।” এ সময় এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভোট সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি রয়েছে।”
বিএনপির এজেন্টদের গ্রেপ্তার-হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি অভিযোগের পার্টি। সাংগঠনিক অবস্থার কারণে তাদের লোক নেই। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এজেন্ট দিতে পারেনি।”
চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম কোনো ভোটে লড়ছেন।

আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের দখলে ছিল কেন্দ্র : শাহাদাত
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেছেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসার সামনে ভোর থেকে সন্ত্রাসীরা দাঁড়িয়ে আছে। ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের লাঞ্ছিত ও মারধর করা হচ্ছে।’

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের বিএড কলেজের প্রশাসনিক কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি এসব অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের মারপিট ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। তবে যত বিশৃঙ্খলাই হোক, তিনি মাঝপথে ভোটের মাঠ ছেড়ে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর খুলশী, চানগাঁও, বাকলিয়ায় আমাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাগুলিতে ৩ তিন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এমনকি আমাদের নারী কর্মীদের গায়েও হাত তোলা হয়েছে।

ধানের শীষের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই ভোটকেন্দ্র দখলের পায়তারা চলছে। প্রশাসনের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন হচ্ছে না। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে। কোনো রকম বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহাদত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে রাজনীতি করে আসছি। মাঝপথে ভোট থেকে সরে যাবো না। বরং আওয়ামী লীগের বেহায়াপনা ও ভোট ডাকাতির চিত্র বিশ্বকে দেখিয়ে দেব।