সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

লোহাগাড়ায় বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর মামলায় মোস্তাক মেম্বার কারাগারে

এ.কে.আজাদ, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২০ মঙ্গলবার, ১১:১২ পিএম

লোহাগাড়ায় বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর মামলায় মোস্তাক মেম্বার কারাগারে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের বিবিবিলা এলাকায় বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর মামলায় স্থানীয় চরম্বা ইউপি`র সাবেক সদস্য মোস্তাক আহমদ ওরফে মোস্তাক মেম্বারকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন ) সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের বিবিরবিলা এলাকা থেকে লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুল মোনাফের পুত্র বলে জানা গেছে।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, মোস্তাক আহমদ মেম্বারকে চরম্বা বিবিবিলা এলাকায় বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনায় আটক করা হয়েছে। গত ২৫ মে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনায় জড়িত মো: জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করা হলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। এতে মোস্তাক আহমদ এ ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেন তিনি। এরপরই মোস্তাক আহমেদ মেম্বারকে গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে পুলিশ। কিন্তু তিনি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এতোদিন গ্রেফতার এড়িয়ে চলেছেন।

অবশেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোস্তাক আহমদ মেম্বারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আটকের পর একইদিন দুপুরে তাকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুড়িশিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আটক মোস্তাক আহমদের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় চাঁদাবাজি মামলাও রয়েছে।

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে মৌলভী হেলাল উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত ১৫ মে শুক্রবার রাতে আমরা হামলার সঙ্গে জড়িত কামাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করে পরেরদিন ১৬ মে শনিবার তাকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুড়িশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারামতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কামাল উদ্দীন। বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম ও মোস্তাক আহমেদ মেম্বারসহ তিন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং দু`জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।

তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন, আটক কামাল উদ্দীন ও জাহাঙ্গীর আলম বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর ঘটনায় জড়িতদের নাম ও পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত জানিয়েছে। তারা দু`জনই রকি বড়ুয়ার বাড়ীতে পরিকল্পনা বৈঠক পূর্বক রকি বড়ুয়ার নেতৃত্বেই বৌদ্ধ বিহারে ভাংচুর চালানো হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। অস্ত্র-মাদকসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা রকি বড়ুয়াকেও রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে ভোরে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিরবিলা এলাকায় বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল রকি বড়ুয়া তার বাহিনী দিয়ে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।