সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রামে ১০ ওয়ার্ড ৯ উপজেলা রেডজোন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২০ সোমবার, ০৯:১০ এএম

চট্টগ্রামে ১০ ওয়ার্ড ৯ উপজেলা রেডজোন

চট্টগ্রাম নগরীর ১০ ওয়ার্ড ও জেলার ৯ উপজেলাকে রেডজোন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে প্রথম লকডাউন করা হচ্ছে নগরীর ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড।  মঙ্গলবার ১৬ জুন মধ্যরাত ১২টার পর থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন হচ্ছে পুরো উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড এলাকা।
এই সময়ের মধ্যে ঘর থেকে কোনো মানুষ বের হতে পারবে না। এমনকি ওষুধের দোকানও বন্ধ থাকবে। আর পুরো এলাকার লোকদের সহায়তার জন্য থাকবে সিটি কর্পোরেশন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন।

এছাড়া রেড জোনে থাকা বাকি ৯ ওয়ার্ডগুলো হলো- ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড, ২০ নম্বর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড, ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ড, ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ড, ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড ও ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড।

এদিকে রেডজোনে থাকা উপজেলাগুলো হলো আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, হাটহাজারী, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সীতাকুন্ড। তবে এসব উপজেলায় কখন লকডাউন কার্যকর হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। ৩১ মে থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনে যেসব এলাকায় প্রতি লাখে ১০জনের বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে সেসব উপজেলাকে রেডজোনে রাখা হয়েছে।

লকডাউন বিষয়ে রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপসি’তিতে সভায় আলোচনার ভিত্তিতে সবার আগে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে লকডাউন ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

বাকি ওয়ার্ডগুলোর বিষয়ে আমরা শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে। বাকি ওয়ার্ডগুলো একসাথেও লকডাউন করা হতে পারে কিংবা পর্যায়ক্রমে করা হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৪ দিনে প্রতি লাখে ৬০ জন মানুষ আক্রান্ত হলে সেই এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রামের ১০টি জোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রয়েছে ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে। প্রাপ্ত তথ্যমতে এই ওয়ার্ডে ১৬১ জন, এছাড়া ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ১৪৫ জন, ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে ১০৫ জন, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে ৮১ জন এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোতে ৪৬ জন বা এর বেশি রয়েছে। কিন্তু চকবাজার অনেক বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এবং এখানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা হওয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে কাট্টলিকে প্রথমে লকডাউন করা হচ্ছে।

জানা যায়, লকডাউন এলাকার কোনো মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। এমনকি মসজিদ, মন্দির, গির্জায়ও কেউ উপাসনা করতে যেতে পারবে না। শুধু মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেম এবং মন্দিরের পুরোহিতরা থাকবেন। বন্ধ থাকবে সব দোকানপাট এমনকি ওষুধের দোকানও।

করোনা আক্রান্ত কিংবা সন্দেহভাজনরা যাতে টেস্ট করাতে পারে সেজন্য একাধিক নমুনা বুথ থাকবে এলাকায়। একইসাথে রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের হাসপাতাল সুবিধা দেয়ার জন্য থাকবে অ্যাম্বুলেন্স। এলাকার মানুষ যাতে সিটি কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুমে ফোন করার সাথে সাথে সব পায়  সেই ব্যবস্থা থাকবে। কন্ট্রোলরুমে ফোন করে ঘরে বসেই  সব ধরনের পণ্য কিনি নিতে পারবেন। স্বেচ্ছাসেবক ও সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ভ্যানের মাধ্যমে এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করা হবে। মানুষ অর্থের বিনিময়ে ভ্যান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে।এই এলাকা থেকে কেউ বের হতে পারবে না এবং অপর এলাকা থেকে কেউ এই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।