সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

আনোয়ারায় নতুন ১৫ করোনা আক্রান্ত কে কোথায়

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২০ শনিবার, ০৮:৩৩ পিএম

আনোয়ারায় নতুন ১৫ করোনা আক্রান্ত কে কোথায়

আনোয়ারায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। ঈদ শেষে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পর কয়েকদিনেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ গুণ। শুক্রবার এক দিনেই নতুন করে আরো ১৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা থানা পুলিশ। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করেছে বলে নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আনোয়ারা থেকে এ পর্যন্ত মুনা পাঠানোদের মধ্যে ৪৪জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারায় বসবাসকারী আছেন ৩৮জন। বাকীরা চন্দনাইশ, কর্ণফুলী বা অন্য এলাকার বাসিন্দা।

শুক্রবার (৫জুন) সনাক্তদের মধ্যে আনোয়ারায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ ডাক্তার, ১ পুলিশ সদস্য, ব্যাংক কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিবারের ২ সদস্যও রয়েছেন।  এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৪৪ জন। অথচ ৩০ মে আনোয়ারায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০জন।

থানা সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ৩৯টি নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়।  রিপোর্টে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ১৫ জনের করোনা পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ জন ডাক্তার, তৈলারদ্বীপ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ মেডিকেল অফিসার ও অফিস সহায়ক, রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী পুলিশ পরির্দশকের স্ত্রী ও সন্তান, হাইলধর ইউনিয়নের মাইজপাড়ার বাসিন্দা মহানগর গোয়েন্দা শাখার এসআই ১ জন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ১ জন, বৈরাগ খান বাড়ী ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বটতলী রুস্তমহাট সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ১জন, বারখাইন ইউনিয়নের নাছির মেম্বারের বাড়ির ৬৪ বয়সের বৃদ্ধাসহ ২ জন, ইয়াংওয়ানের চাকুরীজীবি বৈরাগ ইউনিয়নের আমান উল্লাহপাড়া ৯নং ওয়ার্ডের ২৬ বয়সের ১ যুবক, উত্তর বন্দর গ্রামের ২ জন,  উপজেলার বটতলী হাজীগাঁও ইসমাঈল সওদাগরের বাড়ির ২৬ বছরের এক কলেজ ছাত্র, আইর মঙ্গল ৭নং ওয়ার্ডের ৬৩  বছরের এক বৃদ্ধা রয়েছেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার বাইয়ে থেকে শহর, কর্ণফুলী ও চন্দনাইশ থেকেও পরীক্ষা করানোর জন্য আসে। অন্য উপজেলা ও শহরেরগুলো ছাড়া শুক্রবারের ১৫জনসহ এ পর্যন্ত আনোয়ারায় ৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা সবাই সুস্থ রয়েছেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ বলেন, আক্রান্তদের সবার বাড়ি-বাসা লকডাউন করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসা ও হাসপাতালে সিট সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে স্থানীয় সাংসদ ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির নিদের্শনায় লাবিবা কনভেনশন হলকে আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। যে কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি এখানে এসে সেবা নিতে পারবেন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে সবসময় বলা হচ্ছে, তারপরও মানুষ যেন মানতে চাচ্ছে না। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং মাস্ক ব্যবহার না করায় কয়েকজনে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানাও করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের মনিটিরিং অব্যাহত রয়েছে।

শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি আনোয়ারা শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদের পর জ্বর ও বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আনোয়ারায় করোনা সনাক্তও কয়েকগুণ বেড়েছে। মনে হচ্ছে ঈদ কেনাকাটা ও ঈদে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসায় সংক্রমন বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঘরে থাকার বিকল্প নেই।