সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

জাতিসংঘ পুরস্কার পেল ভূমি মন্ত্রণালয়

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২০ শুক্রবার, ০৬:৩২ পিএম

জাতিসংঘ পুরস্কার পেল ভূমি মন্ত্রণালয়

মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস পাবিলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ পেয়েছে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়। ই-মিউটেশন উদ্যোগ বাস্তবায়নের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাকে চিঠি দিয়ে একথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের (ডেসা) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল লিউ ঝেনমিন। শুক্রবার (৫ জুন) ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জনসেবায় অবদান , ই-নামজারি (ই-মিউটেশন) উদ্যোগ বাস্তবায়নের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ শীর্ষক এই পুরস্কার অর্জন করেছে মন্ত্রণালয়টি।

পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি বলেন, “জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে বেশ আনন্দের। বিশ্বের অনেক দেশের বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে যাচাই বাচাই করে জাতিসংঘ আমাদেরকে পুরস্কৃত করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এ ধরনের অর্জন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার `ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের দূরদর্শী উদ্যোগের কারণে সম্ভব হচ্ছে। তাঁর নির্দেশনায় আমাদের সকলের দলগত প্রচেষ্টায় আজকের এ অর্জন। ভূমিমন্ত্রী আরো বলেন, ”এই পুরস্কার কাজ ও ভূমি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে নাগরিক সন্তুষ্টির স্বীকৃতি। আমরা এখানে থেমে থাকতে চাই না। যেতে চাই বহুদূর। আমি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর বলেছিলাম ভূমি মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে যেতে চাই। এ অর্জন আমাদের পথ চলতে উৎসাহ যোগাবে।”

জাতিসংঘ থেকে প্রেরিত বার্তায় জানানো হয়, ই-মিউটেশন উদ্যোগ বাস্তবায়নের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ’ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার পেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিকে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল উল্লেখ করেন,‘জনস্বার্থে সেবার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়টির অসামান্য অর্জন শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ আপনার দেশে জনপ্রশাসনের উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রকৃতপক্ষে, এই কাজ জনসেবায় ব্রতী হতে বাকিদের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ জোগাবে।’

ওই চিঠি পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন,‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এ ধরনের সাফল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের দূরদর্শী উদ্যোগেরই ফসল।’

স্থানীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য সেবার গুণগত মান ও উৎকর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ রেজ্যুলেশন নম্বর ৫৭/২৭৭-এর মাধ্যমে ২৩ জুনকে ‘জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিবছর ২৩ জুন যথাযোগ্য আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে জাতিসংঘ দিবসটি উদযাপন করে। এ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সরকারি খাতে গৃহীত উদ্ভাবনী উদ্যোগকে পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ এ বছর পাবলিক সার্ভিস পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে। জাতিসংঘ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে বিভিন্নমুখী প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে এই পুরস্কার বিজয়ের বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিকে লেখা  চিঠিতে ল্যু জেনমিন বলেন, জনস্বার্থে সেবার অসামান্য অর্জনে বাংলাদেশের

এর আগে, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে সারাদেশে (তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে) শতভাগ ই-নামজারি বাস্তবায়ন শুরু হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ বছরের ১৭ মার্চ থেকে নামজারির জন্যে কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ না করার ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের ৪৮৫টি উপজেলা ভূমি অফিস ও সার্কেল অফিস এবং ৩৬১৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ই-নামজারি বাস্তবায়ন হচ্ছে। সেবা শুরুর পর থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৫ লখ ৫৮ হাজার ৭৭০টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৫৮৮টি আবেদন অনলাইনে নিষ্পত্তি হয়েছে। ই-নামজারির মাধ্যমে সেবা গ্রহণের সময় ও খরচও কমে যাওয়ায় নাগরিক সন্তুষ্টি বাড়ছে বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।