সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

তিন অবুঝ শিশুর কান্না থামাবে কে

এ.কে.আজাদ, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২০ বুধবার, ০৯:২০ এএম

তিন অবুঝ শিশুর কান্না থামাবে কে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর আজিজ ডাক্তারের পাড়ায় সৌদিয়া প্রবাসীর এক স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। চলছে এলাকায় নানা গুঞ্জন। এটি কি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকাবাসীর কানাঘুষার শেষ নেই।

২৪ মে (রবিবার) সকাল ১১টায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধুর নাম আঞ্জুমান আক্তার গিন্নী(২৮)। সে ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী নুরুল আলমের স্ত্রী এবং ৩ সন্তানের জননী বলে জানা গেছে। তবে, এ ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর দেবর মামুন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে দেবর মামুন ও দুই জা`র বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছে।

নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই মুহাম্মদ আলী জানান, দেবর মামুন ও সেজ জা কাউছার আক্তার পাখির সাথে বাড়ির সীমানা নিয়ে তার বোন আঞ্জুমান আক্তার গিন্নীর পারিবারিক বিরোধ ছিল আগে থেকেই। এ বিরোধের জের ধরে প্রায় সময়ই তারা গিন্নীকে মারধরও করতো। ঘটনার দিন ফজরের নামাজের পর গিন্নীর সাথে আমার শেষ কথা হয়। তাদের বাড়ির পাশের আমার এক খালাতো বোনের মাধ্যমে বোন গিন্নীর মৃত্যুর খবরটি পেয়ে সাথে সাথে তার শ্বশুর বাড়ি গিয়ে গিন্নীর লাশ খাটে পড়ে থাকতে দেখে আমি অবাক হয়ে পড়ি।

তিনি আরো জনান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সীমানা বিরোধের জের ধরে দেবর মামুন ও ছোট জাঁ কাইছার আক্তার পাখি মিলে পরিকল্পিতভাবে আমার বোন গিন্নীকে হত্যা করেছে, এটা আমি নিশ্চিত। আমি বোন গিন্নী হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। নিহত গৃহবধূ গিন্নীর বড় জা খালাদা আক্তার জানান, ঘটনারদিন সকাল ৮ টায় দেবর মামুন ও গিন্নীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। মামুন ও গিন্নীর মধ্যে লোহার রড নিয়ে টানাটানি করতে দেখি। এক পর্যায়ে দেবর মামুন গিন্নীকে লাথি, কিল ও ঘুষি মারতে থাকলে সে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এর পর আমি বাড়িতে ঢুকে যায়। পরে কি হয়েছে জানি না।
নিহত গিন্নীর বড় ছেলে অবুঝ শিশু নোমানের (৪) কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, মামুন বাবা আমার আম্মুকে মেরেছে। লাথি মেরেছে।

অভিযুক্ত মুন্নীর জা কাউছার আক্তার পাখি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এখন গর্ভবতী ও অসুস্থ। ঘটনারদিন গিন্নীর সাথে বাড়ির সীমানার দরজা নিয়ে একটু কথাকাটি হয়। এরপর দেবর মামুনের সাথে কি হয়েছে আমি জানি না। তবে, গৃহবধু গিন্নীর মৃত্যর ঘটনায় সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে বড়হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান  জুনাঈদ চৌধুরী বলেন, মামুন খুব খারাপ ছেলে। সে মাদক সেবন করতো। এলাকাবাসী থেকে জানতে পারলাম সে প্রায়ই ভাবী গিন্নীকে মারধর করতো। ঘটনারদিনও সে রড দিয়ে গিন্নীকে মারধর করে। এখন মারধরের অপমান সহ্য করতে না পেরে গিন্নী আত্নহত্যা করলো, নাকি গিন্নীকে মেরে লাশটি ঝুলিয়ে দিলো ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, মৃত গৃহবধু গিন্নীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গৃহবধু গিন্নীর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে দেবর মামুন ও দুই জাঁ`র বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দেবর মামুনকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, সোমবার (২৫ মে) ঈদুল ফিতরের দিন আছর নামাজের পর শ্বশুর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে নিহত গিন্নীর লাশ দাফন করা হয়েছে। মাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ অবুঝ তিন শিশু । নিহত গৃহবধু গিন্নীর ৪ বছর বয়সী এক ছেলে, ৩ বছর ও ৬ মাস বয়সী দুই মেয়ে মাকে হারিয়ে অঝোরে কান্না করছে অবুঝ শিশুরা। বার বার কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছিলেন তারা। তাদের সান্তনা দেয়ার মতো কারো কোন ভাষা নেই। এখন মা হারা এ অবুঝ শিশুদের কান্না থামাবে কে ?