রোববার, ৩১ মে ২০২০

এস আলম পরিবারে আরেক দু:সংবাদ, মা-ছেলের করোনা

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২০ রবিবার, ০৪:০৫ এএম

এস আলম পরিবারে আরেক দু:সংবাদ, মা-ছেলের করোনা

করোনা আক্রান্ত বড় ভাই মোরশেদুল আলমের মৃত্যুর পরের দিনই এস আলম পরিবার পেল আরেক দু:সংবাদ। এবার করোনা ধরা পড়েছে এসআলম গ্রুপের কর্নধার সাইফুল আলম মাসুদের মা চেমন আরা বেগম (৮৫) এবং বড় ছেলে আহসানুল আলমের (২৬) শরীরে।

গত ১৭ মে বিআইটিআইডি থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে এসআলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পাঁচ ভাইসহ এক ভাইয়ের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের কেউই এখন পর্যন্ত সেরে উঠেনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফুল আলম মাসুদের বড় ভাই মোরশেদুল আলম (৬৬)। তবে পরিবারের মেজ সন্তান সাইফুল আলম মাসুদ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।

শনিবার চট্টগ্রাম বিআইটিআইডি থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নতুন করে এস আলমের মা ছেলের করোনা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এস আলমের ২৬ বছর বয়সী ছেলে আহসানুল আলম মারুফ সমপ্রতি বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সাইফুল আলম মাসুদের মা চেমন আরা বেগম প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর বোন ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের আপন ফুফু।

মা ও ছেলেকে ঢাকায় স্থানান্তর :

এদিকে নমুনা দেওয়ার পর রিপোর্ট আসার আগেই এস আলমের মা চেমন আরা বেগম  ও ছেলে আহসানুল আলম মারুফকে ঢাকার গুলশানে সাইফুল আলম মাসুদের নিজস্ব বাসভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৩ মে) চট্টগ্রাম নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের বাসা থেকে আইসিইউযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে এই দুজনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন আহসানুল আলম মারুফের স্ত্রী ও চার মাস বয়সী সন্তান। গুলশানের বাসায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলবে বলে জানা গেছে।

চার ভাইয়ের অবস্থা স্থিতিশীল :

করোনা আক্রান্ত এস আলমের জীবিত ৪ ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। এই চারজনকেও ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এরা হলেন এস আলম গ্রুপের পরিচালক ৬০ বছর বয়সী রাশেদুল আলম, এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ৫৩ বছর বয়সী আবদুস সামাদ লাবু, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক ৪৫ বছর বয়সী ওসমান গণি। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ওই পরিবারের ৩৬ বছর বয়সী এক নারীও। ওই নারী তাদের এক ভাইয়ের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

এদিকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সাইফুল আলম মাসুদের ভাই শহীদুল আলম কে জেনারেল হাসপাতাল থেকে শুক্রবার  বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ আবদুর রব। তিনি আরো বলেন,‘এসআলম পরিবারের করোনা আক্রান্ত সকলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।’

নতুন আক্রান্ত ১৬৬

শনিবার দেশের অন্যতম শিল্পগ্রুপ এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের মা ছেলেসহ আরো ১৬৬জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে শনিবার করোনা পজিটিভ হওয়া ৬৫ জনের মধ্যে ২২ জন ই পুলিশের সদস্য। এর মধ্যে  মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ১৫ জন ও শিল্প পুলিশের সাতজন। বিআইটিআইডির পজিটিভ হওয়াদের মধ্যে ৯ জন রয়েছেন র‌্যাবের সদস্য। 

শনিবার চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার ল্যাবে করোনা পরীড়্গায় ৪৫১টি নমুনায় ১৬৬ জন করোনায় পজিটিভ হয়েছেন। এই ১৬৬ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৪৬ জন ও বিভিন্ন উপজেলার রয়েছে ২০ জন। ফলে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬১১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ১৪৬ জন ও মারা গেছেন ৫২ জন।

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায়, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ২৪৬টি নমুনার মধ্যে ৬২টি পজিটিভ পাওয়া গেছে। এই ৬২টি পজিটিভের মধ্যে ৫৬টি মহানগরীর ও ৬টি বিভিন্ন উপজেলার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে  শনিবার ১৪০ জনের নমুনার মধ্যে ৯৮ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে মহানগরীর ৯০ জন ও উপজেলার রয়েছে ৮ জন। ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০টি নমুনায় সবগুলো নেগেটিভ ফলাফল পাওয়া গেছে। এছাড়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১৫টি নমুনার মধ্যে ৬টি পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরসবগুলোই উপজেলার।

র‌্যাব-পুলিশে একদিনেই ২৭জন

র‌্যাব, নগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশসহ চট্টগ্রামে একদিনেই ২৭ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। এছাড়া তিন শিশুসহ পুলিশ পরিবারের এক নারীর মধ্যেও করোনার জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।বিআইটিআইডির নমুনা পরীক্ষায় এই ২৭ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে শনাক্ত হন।

দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরা সবাই পুলিশ পরিবারের সদস্য। র‌্যাব-৭ এ একসঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন নয় সদস্য। চট্টগ্রামের শিল্প পুলিশে আবার আক্রান্ত হলেন আরও সাত সদস্য। হালিশহর জেলা পুলিশ লাইনেও আক্রান্ত হয়েছেন একসঙ্গে আটজন পুলিশ সদস্য।  এছাড়া করোনার জীবাণু মিলেছে ২৫ ও ২৮ বছর বয়সী দুই পুলিশ সদস্যের শরীরে। তবে তাদের অবস্থান জানা যায়নি। অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানায় কর্মরত এক কনস্টেবল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার বয়স ২৮। এছাড়া খাগড়াছড়ির অনন্ত মাস্টার পাড়ার এক নারী, রাঙ্গামাটির নাইল্যাছড়ির এক নারী এবং রাঙ্গামাটির মন্ডিছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্য করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

উপজেলার ২০ জন

শনিবার করোনা আক্রান্ত হওয়া উপজেলার ২০ জনের মধ্যে লোহাগাড়ার ২ জন, সাতকানিয়ার চার জন, আনোয়ারার একজন, পটিয়ার দুই জন, রাঙ্গুনিয়ার তিন জন, ফটিকছড়ির একজন, হাটহাজারির একজন ও সীতাকুন্ডের ছয় জন রয়েছেন।

করোনায় আক্রান্ত চেম্বার পরিচালক

শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বারের এক পরিচালকের শরীরেও করোনা ধরা পড়েছে। তিনি বিজিএমইর প্রথম সহ-সভাপতি ও এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এমএ সালামের বড় ছেলে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এশিয়ান গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সাকিফ আহমেদ সালাম । একইসঙ্গে তার স্ত্রীও করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী সাকিফের মধ্যে জ্বর-গলাব্যথার মতো কোন উপসর্গ নেই। তবে তার স্ত্রীর জ্বরের উপসর্গ থাকলেও বর্তমানে তা নেই। এস আলম পরিবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে সন্দেহ থেকে তিনি ও তার স্ত্রী গত ২১ মে করোনাভাইরাসের নমুনা দেন। এরপরই করোনা পজিটিভ এলো।

বর্তমানে স্ত্রীসহ সাকিফ আহমেদ সালাম ওআর নিজাম সড়কের ১ নম্বর রোডে নিজের বাড়িতেই আইসোলেশনে রয়েছেন।