রোববার, ৩১ মে ২০২০

নারায়নগঞ্জ থেকে এসে বিপদ বাড়ালেন ওরা

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২০ বুধবার, ১১:৫৬ পিএম

নারায়নগঞ্জ থেকে এসে বিপদ বাড়ালেন ওরা

ভয়াবহ বিপদজনক এলাকা হিসাবে লকডাউনে থাকা নারায়নগঞ্জ থেকে দুই লোকের চট্টগ্রাম আসা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া সোনাকানিয়ার একজন এসেছেন ২০ মার্চ । তখন সেখানে লকডাউন শুরু না হলেও ভেতরে ভেতরে শুরু হয়ে গিয়েছিল করোনার বিস্তার। আর অতি সম্প্রতি আসেন এক ব্যাংক কর্মকর্তা। বুধবার তার নমুনা পজেটিভ ধরা পড়ে। 

দেশে এখন পর্যন্ত ২১৮ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোগী ঢাকায়। আর করোনা রোগীর সংখ্যায় দ্বিতীয় নারায়ণগঞ্জ। সেখানে ৪৬ জন রোগী ধরা পড়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও পালাচ্ছেন অধিবাসীরা।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সেখানে কাজ করতে আসা শ্রমিকরা রাতের আঁধারে নিজ নিজ গ্রামে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের কাছে খবর যাওয়ার পর নিজ গ্রাম থেকেও পালানোর ঘটনা ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে কাজের জন্য যায় মানুষ। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে মেয়র কারফিউ জারির দাবি করলেও লকডাউন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ আছে। আর আইনশঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে নারায়ণগঞ্জের মানুষ।

ঢাকার আইইডিসিআরে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের একজনের নমুনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি নারায়নগঞ্জে গেন্জির ব্যবসা করেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। স্ত্রী, সন্তান ও মা-কে নিয়ে তিনি নারায়নগঞ্জই থাকেন। গত ২০ মার্চ তিনি সাতকানিয়ার সোনাকানিয়ার ছোট হাতিয়া গ্রামের বাড়িতে এসে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আবার ওই রাতেই নারায়নগঞ্জে ফিরে যান। এজন্য ছোট হাতিয়া গ্রামের সোয়াবর পাড়া, মিয়া পাড়া ও আসাদতলীর এই ৩ পাড়ার ৫ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। এর মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারীর বাড়িও রয়েছে।

এদিকে বুধবার চট্টগ্রামে করোনা পজেটিভ হওয়া ৩ জনের একজন নারায়নগঞ্জে একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন বলে জানা গেছে। তার  বাড়ি সীতাকুণ্ড পৌর সদরের উত্তর বাজার গোডাউন পাড়া এলাকায়। সম্প্রতি তিনি নারায়নগন্জ থেকে আসেন বলে জানা গেছে। বুধবার রাতেই  প্রশাসন গোডাউন রোডের ৬ বাড়ি ৩ দোকান  লকডাউন করেছে।

সনাক্ত অপর একজন নগরীর পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকার থাকেন। বয়স  ৩৫ বছর। ওই মহিলা সম্প্রতি শ্বাসকষ্টসহ সর্দি-জ্বর-কাশিতে ভুগছিলেন।  তার নমুনা বিআইটিআইডিতে পাঠনোর পরপরই তার বাড়িতে বসবাসরত ছয় পরিবারকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা গিয়ে বাড়িটি লকডাউন করেছে।

আক্রান্ত তৃতীয় ব্যক্তি নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা এলাকায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি একজন গার্মেন্টস কর্মী। সাগরিকা ফারুক ভবনের চতুর্থ তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন। এখানকার দুটি বাড়ি রাতে লকডাউন করা হয়েছে।

লকডাউন ও কড়াকড়ির মধ্যেই মানুষ  এক জায়গা থেকে অন্য জাযগায় যাওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ঢাকার মতোই চট্টগ্রামেও প্রবেশপথ বন্ধের দরকার ছিল। মানুষকে দেখে তো বুঝা যায়না কে সাসপেক্টেড আর কার কোয়ারেন্টাইনে কথা!