বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০

সিটি ব্যাংকে করোনা সতর্কতায় বিশেষ নির্দেশনা

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২০ শুক্রবার, ০৩:২৫ পিএম

সিটি ব্যাংকে করোনা সতর্কতায় বিশেষ নির্দেশনা

ব্যাংকিং সেক্টরে করোনা সতর্কতায় এগিয়ে থাকল দেশের প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির সারাদেশের বিভিন্ন শাখায় ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মীদের জন্য মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় সতর্কতা ব্যবস্থায় আরো খানিকটা এগিয়ে। বিশেষ কমিটি গঠন করে সারা দেশে ব্যাংকের শাখাগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

গুলশানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে থার্মাল স্ক্যানারে সবার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। হাত হাইজেনিক করার জন্য পর্যাপ্ত স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো ভবনের দরজা ও হ্যান্ডেল হাইজেনিক রাখতে নতুন করে ওয়াশ করা হচ্ছে।

সিটি ব্যাংকের প্রধান গণসংযোগ কর্মকর্তা মির্জা ইয়াহিয়া জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে নতুন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অন্ন-বস্ত্রের মতো মৌলিক চাহিদা তো পূরণ করতেই হবে। তাই লেনদেন চালু থাকবে।

গণসংযোগ কর্মকর্তা জানান, আমরা যারা ব্যাংকিং সেক্টরে আছি তাদের কর্মকাণ্ড থামানোর উপায় নেই। কিন্তু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতেই হবে। এ বিষয়ে সিটি ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, ১৮ মার্চ মিটিং আয়োজন করেন সিটি ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে তিনি একটি বিশেষ কমিটি করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশে ব্যাংকের সব শাখা মনিটর করা হবে।

করোনা প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসেবে এরইমধ্যে রাজধানীর গুলশানে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে থার্মাল স্ক্যানারে সবার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। হাত হাইজেনিক করার জন্য পর্যাপ্ত স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো ভবনের দরজা ও হ্যান্ডেল হাইজেনিক রাখতে নতুন করে ওয়াশ করা হচ্ছে বলে জানান এই জনসংযোগ কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আপাতত গেস্ট আসা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফোনে ও ভিডিওকলে তাদের সঙ্গে কাজ সারতে হবে। একান্তই যদি কাউকে অফিসে আনতে হয়, তবে তার শারিরীক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হবে।

অন্যদিকে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের সমস্ত শাখা অফিসে ফিঙ্গার ইমপ্রেশন সিস্টেম হাজিরা ইনেকটিভ করে, আইডি-কার্ড বেসড হাজিরা চালু করা হয়েছে। ক্যাশ, ফ্রন্ট ডেস্ক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সব কর্মীর মুখে মাস্ক থাকতে হবে।

তাদের সবাইকে গ্লাভস পরে কাজ করতে হবে। সবিমিলিয়ে সিটি ব্যাংক পরিবার তাদের সব স্তরের কর্মী ও গ্রাহকের সুরক্ষায় শতভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সবাই এতে সংশ্লিষ্টদের সহায়তা করবো।`

ব্যাংকটির চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত রিলেশনশিপ ম্যানেজার এ এস এম আতিক উল্লাহ বলেন, আধুনিক ব্যাংকিংয়ে সিটি ব্যাংক একটি উদাহরণ। একইভাবে করোনা ভাইরাস সতর্কতা ও কর্মীদের সুরক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। কর্মীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এসব সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা কৃতজ্ঞ। বিপদজনক এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।

ব্যাংক কতৃপক্ষ জানিয়েছে এই সময় নগদ টাকা ব্যবহারের চেয়ে কার্ডে লেনদেন তুলনামূলক ভালো। সিটি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীরা এ বিষয়েও জোর দেবেন। সবাই সতর্ক থাকলে করোনাভাইরাস অবশ্যই একটা সময় পরাজিত হবে। এজন্য আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। হাইজেনিক থাকতে হবে সবাইকে। জানিয়েছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।