শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চট্টগ্রামের ৩ জনসহ ২১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে একুশে পদক

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার, ১০:৩৫ পিএম

চট্টগ্রামের ৩ জনসহ ২১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে একুশে পদক

চট্টগ্রামের ৩ জনসহ ২০ জন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে। বুধবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবারের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে।

এর মধ্যে  চট্টগ্রামের ব্যক্তিত্ব সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সমাজসেবায়, হাফেজ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ গবেষণায় এবং অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া শিক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন।

সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী ও সাহিত্য-সংস্কৃতি সমযদার ব্যক্তি। সুফিমতাদর্শে বিশ্বাসী এই সমাজসেবী দেশে-বিদেশে ‘সুফি মিজান’ নামে সুপরিচিত।  অক্লান্ত পরিশ্রম, অসাধারণ মেধা, সততা ও নিষ্ঠা তাকে দেশের অন্যতম শিল্প-ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি পিএইচপি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান। শিক্ষাখাতে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের স্বার্থে তিনি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ্ চট্টগ্রামে আগ্রাবাদের পীর হিসাবে বিশেষ পরিচিত। ১৯১৬ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তার জন্ম। তিনি ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া ছুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রথম মুহাদ্দিস। তিনি  ছুন্নি আকিদা ভিত্তিক খোতবাতে রহমানিয়া (আরবী ও বাংলা), সৃষ্টির অদ্বিতীয় বিদ্যার সা্গর, হাজের নাজের নবী দিবাকর, আল ইমাম ফিল মিলাদে ওয়াল কিয়াম, হায় কবরের পথে, ইসলামী পর্দা ও সুন্নি জামাত, ছাত্র-ছাত্রী কালজয়ী মনিষী, কালেমায়ে তৈয়্যোবা, আর রাইদাতুল ওয়াহেদা লিল ফিরকাতিল বাতেলা আরবী ও লন্ডনের ভাষণ এরকম বহু ধর্মীয় গবেষণামূলক গ্রন্থের প্রণেতা।

শিক্ষায় একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া একজন নামী শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি বহু সংগঠনের প্রতিষ্টাতা।  বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘ (যুব)এর প্রাক্তন উপদেষ্টা তিনি।

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে একুশে পদক তুলে দেবেন।

এবার ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য একুশে পদক পাচ্ছেন প্রয়াত আমিনুল ইসলাম বাদশা। সাংবাদিক, লেখক বাদশা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব।

সঙ্গীতে মিতা হকের পাশাপাশি পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন ডালিয়া নওশিন ও শঙ্কর রায়।

নৃত্যে একুশে পদক পাচ্ছেন মো. গোলাম মোস্তফা খান। এস এম মহসীন অভিনয় ক্ষেত্রে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। চারুকলায় একুশে পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য প্রয়াত হাজী আক্তার সরদার, প্রয়াত আব্দুল জব্বার এবং প্রয়াত ডা. আ. আ. ম. মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) একুশে পদক পাচ্ছেন।

সাংবাদিকতায় একুশে পদক পাচ্ছেন জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর)। গবেষণায় এবার দুজন একুশে পদক পাচ্ছেন। এরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ও হাফেজ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ।

অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া ‘শিক্ষা’য় একুশে পদক পাচ্ছেন। অর্থনীতি’তে এবার পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সমাজসেবা ক্ষেত্রে একুশে পদক পাচ্ছেন।

‘ভাষা ও সাহিত্যে’ পদক পাচ্ছেন ড. নুরুন নবী, প্রয়াত সিকদার আমিনুল হক ও নাজমুন নেসা পিয়ারি।অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার ‘চিকিৎসা’য় একুশে পদক পাচ্ছেন। ‘গবেষণা’য় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।