বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০

শেখ রাসেল প্রকল্পে মিলছে ৯ কোটি লিটার পানি

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার, ০৯:১৯ পিএম

শেখ রাসেল প্রকল্পে মিলছে ৯ কোটি লিটার পানি

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর পাড়ে চট্টগ্রামের মদুনাঘাট এলাকায় ১৪ একর জায়গা জুড়ে বাস্তবায়িত ওয়াসার  শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্প থেকে দৈনিক মিলছে ৯ কোটি লিটার পানি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গৃহীত এই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে রোববার।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এই শোধনাগার প্রকল্পে হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে সর্বমোট চার ধাপে এই পানি শোধন করে নতুন স্থাপিত পাই লাইনের মাধ্যমে নগরীতে সরবরাহ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নদীর পানি বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানিতে পরিণত করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় আবার পানি থেকে বের হচ্ছে বিভিন্ন বর্জ্য ও কাদামাটি। এসব বর্জ্য যাতে নদীকে দূষণ করতে না পারে তার জন্য রাখা হয়েছে স্ল্যাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। 

ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ জানান, ২০১১ সালে মদুনাঘাট পানি শোধনাগার প্রকল্প হিসেবে এই প্রকল্প গৃহীত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে ১৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক এক হাজার ৪৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৩৭০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা অর্থায়ন করে। মূলত ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রকল্পের অবকাঠামোগত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়। পরে প্রকল্পের নামকরণ করা হয় শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্প।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্তমানে পানির চাহিদা রয়েছে দৈনিক ৪২ কোটি লিটার। এর মধ্যে নতুন প্রকল্পসহ চট্টগ্রাম ওয়াসা দৈনিক ৩৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। ঘাটতি ৬ কোটি লিটার পানি ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পূরণ করছে নগরবাসী। তবে ওয়াসার পাইপলাইনে থাকা আরো দুটি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওয়াসার পানির উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৫০ কোটি লিটার ছাড়িয়ে যাবে। এতে আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে কোন পানির চাহিদার ঘাটতি থাকবে না। একই সময়ের মধ্যে ওয়াসার আরো নতুন নতুন প্রকল্প যুক্ত হলে চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

ওয়াসার শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্পের অধীনে নগরীতে ১২৬ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে তা চার ধাপে পরিশোধন করে শতভাগ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার পর তা নগরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই প্রকল্প থেকে নগরীর উত্তর-পূর্ব অংশ বৃহত্তর বাকলিয়া, মোহরা, চান্দগাঁও, কালামিয়া বাজার, কল্পলোক আবাসিক এলাকা, রাহাত্তারপুল, খাতুনগঞ্জ, খাজারোড, ডিসিরোড, সিরাজ উদ দৌলা সড়কের পূর্ব অংশ এবং পতেঙ্গা এলাকায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে শুধু পানি শোধন নয়, এই প্রকল্পে সবুজায়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।  শোধনাগারের গেইটের সামনে গেলে চোখে পড়বে নানা রঙের ফলদ ও ফুলগাছ।  যেখানে লাগানো রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ৩৫ হাজার গাছ। প্ল্যান্টকে পরিবেশবান্ধন রাখতে সোলারসহ খোলা স্পেস এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে সেখানে।

দৈনিক ৯ কোটি লিটার ধারণ ক্ষমতার এ প্ল্যান্টের প্রতিটি ভবনের সামনে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ। এছাড়াও পুরো প্ল্যান্টে লাগানো হয়েছে সোলার প্ল্যানসহ ৫৬টি এলইডি বাতি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এ প্ল্যান্টের কাজ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে প্রতিষ্ঠানটির সময় লাগে তিন বছর। 

প্ল্যান্টে দীর্ঘমেয়াদী প্রায় ১২ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে আম, আমড়া, জলপাই, পেয়ারা, ডালিম, ক্রিসমাস ট্রি, দ্বেবদারু এবং বিদেশি পাম ট্রি ইত্যাদি। সৌন্দর্য্যবর্ধকসহ বিভিন্ন ধরণের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজারের মতো। লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ হাজার ফুলের গাছ। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে রঙ্গন, গাদা, গোলাপসহ বিদেশি বিভিন্ন ফুল।

সাতজন মালি নিয়মিতভাবে এসব গাছের দেখভাল করছেন। গাছ ও ফুলে নিড়ানী দিয়ে কাজ করা জহিরুর আলম বলেন, আমাদের কাজই হচ্ছে এসব দেখাশোনা করা। তাই নিয়মিত পানি দিয়ে ও আগাছা পরিষ্কার করে বাগান সাজিয়ে রাখি। একাজ করতে ভালোও লাগে।

ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্পের উপ-পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, এটি একটি পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প। কারণ এ প্রকল্পের পাশে রয়েছে হালদা নদী। তাই সবকিছুই পরিবেশসম্মতভাবে রাখা হয়েছে এ প্ল্যান্টে। এ জন্য আমরা অনেক খোলা জায়গা রেখেছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্ল্যান্টে সবুজায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুয়ায়ী তারা সবুজায়নও করেছে। আমরা এখন এগুলো নিয়মিত পরিচর্যার জন্য প্ল্যান্টের লোকবলকে নির্দেশ দিয়েছি।