বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০

ফরায়েজি চক্রান্ত নস্যাতে অগ্রণী ছিলেন শাহ আহসানুল্লাহ(রহ.)

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার, ১০:০৭ পিএম

ফরায়েজি চক্রান্ত নস্যাতে অগ্রণী ছিলেন  শাহ আহসানুল্লাহ(রহ.)

মশুরিখোলা আনজুমানে আহসানিয়া বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা ও বেতাগি আনজুমানে রহমানিয়া’র উদ্যোগে ‘যুগশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) হযরত কেবলা শাহ আহসানুল্লাহ(রহ.) এর জীবনাদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা ও পথ নির্দেশিকা’ শীর্ষক সেমিনার শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মশুরিখোলা দরবার শরিফের সাজ্জাদানশিন পীরে তরিকত আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আহছানুজ্জামান (ম.জি.আ)।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আনজুমান রিসার্স সেন্টারের পরিচালক আল্লামা এম.এ মান্নান, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আল্লামা এম.এ মতিন, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ  মাওলানা মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, রাজনীতিবিদ ও গবেষক মাওলানা স.উ.ম আব্দুস ছামাদ, লেখক ও গবেষক এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী।

দরবারে বেতাগি আস্তানা শরিফের সাজ্জাদানশীন পীরে তরিকত আল্লামা  মুহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ ও শাহজাদা মুহাম্মদ ওবাইদুর রহমান পেটান শাহর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তারা বলেন, উপনিবেশ বৃটিশ শাসনামলে ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষা, কৃষ্টি সংস্কৃতি, দ্বীনি চেতনা ও সভ্যতা নানাভাবে হুমকির মুখে পড়েছিল। দেশ শাসনের নামে অবিচার, অত্যাচার, ব্যভিচার ও জুলুম-শোষণ চাপিয়ে দেয় বৃটিশ বেনিয়া গোষ্ঠী। অন্যদিকে দারুল হরব তথা শত্রুদের দেশ গণ্য করে এদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে জুমার নামাজ ও দুই ঈদের নামাজ আদায়েও বাধা সৃষ্টি করে ফরায়েজী আন্দোলনকারী মুসলিম নামধারী গোষ্ঠী। ইসলামী শাসন ছিল না বলে জুমা ও ঈদের নামাজ পড়া অবৈধ মনে করতেন ইসলাম ছদ্মবেশী ফরায়েজি আন্দোলনকারীরা। সে ক্রান্তিকালে কুরআন সুন্নাহর সঠিক ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা তুলে ধরে ফরায়েজি গোষ্ঠীর চক্রান্ত নস্যাৎ করে বৃটিশ উপনিবেশ যুগে জুমার নামাজ ও দুই ঈদের নামাজ চালু করে যুগের মুজাদ্দিদ ও পথপ্রদর্শক হিসেবে আবির্ভূত হন আল্লামা শাহসূফি আহসানুল্লাহ(রহ.)।

বক্তারা বলেন, ১৮৭১ সনে ঢাকায় দারুল উলুম আহসানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে এদেশে সর্বপ্রথম দ্বীনি ইসলামী শিক্ষার সূচনা করেন সূফি শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.)। পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর কথা ভেবে নবাব সলিমুল্লাহর সঙ্গে মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়ও তিনি অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। যা আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক গবেষক ড. সৈয়দ শাহ ইমরান। প্রবন্ধে তিনি বলেন, ইলমে জাহের তথা জাগতিক জ্ঞান ও ইলমে বাতেন তথা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের শক্তিতে উজ্জীবিত ছিলেন আল্লামা শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.)। আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআতের মতাদর্শের আলোকে তাঁর সব কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তিনি ছিলেন অগ্রজ সুন্নি আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। ইলমে তাসাউফ চর্চায় আধ্যাত্মিক উচ্চ শিখরে আরোহণ করে তিনি আজীবন মানুষকে দ্বীনি দাওয়াতের পথে আহŸান করেন। অনেক বিধর্মীও তাঁর উন্নত চরিত্র, আচার-ব্যবহার ও আমল আখলাক দেখে ইসলামের সুশীল ছায়াতলে আশ্রয় নেন। তিনি ছিলেন যুগের মুজাদ্দিদ ও দ্বীনি সংস্কারক। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারাও ছিল সময়োপযোগী ও গণমুখী।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা শাহ আহসানুজ্জামান বলেন, যুগে যুগে হক্কানি পীর মাশায়েখগণ মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে থাকেন। তেমনি অসাধারণ আধ্যাত্মিক মনীষী হচ্ছেন আল্লামা শাহ আহসানুল্লাহ  (রহ.)। তাঁর মানবতাবাদী চিন্তাধারা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, অসাধারণ মানবপ্রেম, অনুপম চারিত্রিক মাধুর্য, অতুলনীয় মানবিক মূল্যবোধ, দৃষ্টান্তমূলক সৎকর্ম, মানুষের হাজত মকসুদ পূরণের সক্ষমতা, ফজিলতপূর্ণ আমল ও পরিশুদ্ধ মননশীলতা প্রমাণ দেয় কতো উঁচু মাপের আধ্যাত্মিক মনীষী ছিলেন শাহসূফি আল্লামা শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.)। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন।

সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, হাফেজ মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ রুহুল আমিন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম আল আযহারী, আলহাজ্ব এম.এ কুদ্দুস, অধ্যক্ষ  মুহাম্মদ তৈয়ব আলী, এএফ মোহাম্মদুর রহমান, মাওলানা নুর মুহাম্মদ আল কাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ আবুল বশর, শাহজাদা মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আহমদ উল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তালেব বেলাল, শাহজাদা মুহাম্মদ মোহসেনুর রহমান ইহসান, শাহজাদা মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান এরফান, শাহজাদা হাফেজ মুহাম্মদ জোনাইদ, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আবু তাহের, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী, শাহজাদা মাওলানা মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন আশরাফী, মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম সিকদার, মাওলানা মুহাম্মদ জুন্নুরাইন, শাহজাদা মুহাম্মদ হাসান, শাহজাদা মুহাম্মদ হোসেন, শাহজাদা আরিফুর রহমান সোহরাব, মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মোজাম্মেল, গাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মুহাম্মদ ফারুক, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী, মুহাম্মদ ইকবাল, এডভোকেট এস.এম রেজাউল করিম বাবর, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

মিলাদ কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, বিশ্বের নিপীড়িত মানবতার পরিত্রাণ এবং দেশবাসীর ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন পীরে তরিকত আল্লামা শাহ আহছানুজ্জামান।