শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

অর্থমন্ত্রীকে শিল্পপতি সাইফুল আলমের ফুলেল শুভেচ্ছা

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার, ১০:২৮ পিএম

অর্থমন্ত্রীকে শিল্পপতি সাইফুল আলমের ফুলেল শুভেচ্ছা

বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, অর্থমন্ত্রী তার অক্লান্ত কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং তার এ অর্জন বাংলাদেশের সুনাম বাড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর এই অর্জন তা আরও বেগবান করবে বলে আশাবাদী আমি।

ব্যাংক ও আর্থিক সেক্টরে নিয়ন্ত্রক হিসাবে বর্তমানে এস আলম গ্রুপকে অন্যতম শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবার হিসাবে বিচেনা করা হয়। যাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে অন্তত ৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।  প্রায় ৩০ বছর আগে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পণ্য বেচাকেনা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন ‘এস আলম গ্রুপে’র প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম মাসুদ। তারপর একে একে ঢেউটিন, সয়াবিন তেল, সিমেন্ট, চিনি, সিআর কয়েলসহ বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানা গড়ে তোলেন। শরিয়াহ্ ভিত্তিক বেশ কয়েকটি ব্যাংক ছাড়াও একাধিক আর্থিক ও বিমা কোম্পানির মালিকানায় রয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী এ শিল্পোদ্যোক্তা।

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা দ্য ব্যাংকার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় লন্ডন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বনামধন্য ফাইন্যানন্সিয়াল টাইমস গ্রুপের মাসিক ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’ পত্রিকা ২০২০ সালের জন্য ‘ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার ফর এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ এ ভূষিত করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে।

পত্রিকাটির একটি সম্পাদকীয়তে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ঈর্ষাণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (৮ শতাংশের ওপরে) কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশটি বর্তমানে ৪১তম বিশ্ব অর্থনীতির দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বলছে, দেশটি ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।

‘দ্য ব্যাংকার’ পত্রিকাটি ১৯২৬ সাল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে, যা বিশ্বের ব্যাংকিং সেক্টরের ইন্টেলিজেন্স হিসেবে খ্যাত। তবে ‘ফাইন্যান্স মিটিস্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারটি গত ২০০৪ সাল থেকে প্রচলন করেছে পত্রিকাটি।

সারা বিশ্বের অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনয়নসহ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপ বিবেচনা করে সার্বিক বিবেচনায় এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ, এই পাঁচটি অঞ্চল হতে পাঁচ জন অর্থমন্ত্রী-কে এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের কোনো অর্থমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এই পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। গত বছর এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী, তার আগের বছর ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং ২০১৭ সালে ‘ফাইন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার’ হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা’র অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বিরল এ পুরস্কারটি দেশের সর্বস্তরের সকল জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই এটি অর্জিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের জানুয়ারীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপিকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি ২০১৪-২০১৮ সময়কালে সফলভাবে পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে সচল রাখা ও আর্থিক খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনয়নে বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা অচিরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাসহ ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। পর পর তিন অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার পর গত বছর ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারকারী শীর্ষ ২০টি দেশের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধি টেকসই করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছর অনেকগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রীর নীতি নির্ধারণী অনেকগুলো উদ্যোগের মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাতের সংস্কার প্রণিধানযোগ্য।

প্রথমতঃ ব্যাংক সুদের হার নয় শতাংশে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ, দ্বিতীয়তঃ রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকগুলোর যৌক্তিক কারণে খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফসিলকরণের উদ্যোগ গ্রহণ, তৃতীয়তঃ ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের দেউলিয়া ঘোষণাসহ তাঁদের সম্পদ ‘এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী’র মাধ্যমে গ্রহণ করে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ, চতুর্থতঃ ব্যাংকের পরিবর্তে ক্যাপিটাল মার্কেট হতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ, পঞ্চমতঃ বন্ড মার্কেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রথমবারের মতো বাংলা টাকা বন্ড লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ-এ তালিকাভুক্তকরণ, ষষ্ঠতঃ কর আদায়ে ভ্যাট আইন চালু করা, কাস্টমস আইন সংস্কার করা এবং আয়কর আদায়ের নেট উপজেলা পযন্ত বিস্তারের উদ্যোগ গ্রহণ, সপ্তমতঃ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী।

‘দ্য ব্যাংকার’ পত্রিকা কর্তৃক গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্যা ইয়ার ভূষিতকরণের বিষয়টি অর্থমন্ত্রী হিসাবে তার এ সকল কার্যক্রমের সঠিকতা ও সাফল্যর একটি স্বীকৃতি। এর ফলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশর ও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি আরও উন্নত হবে।

পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট মুস্তফা কামাল এ পর্যন্ত চারবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য পদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলার (দক্ষিণ) আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সচিব পদে আসীন। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।