সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০

আনোয়ারায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ছাড়াই ফিরতে হলো আনোয়ারাকে

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার, ১১:৪৭ এএম

আনোয়ারায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ছাড়াই ফিরতে হলো আনোয়ারাকে

চিকিৎসকের অসহযোগিতার কারণে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা না নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে। বয়োবৃদ্ধ আনোয়ারা বেগম (৬৫) বুকে ব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় বুধবার বিকালে হাসপাতালে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক যথাসময়ে চিকিৎসা না নিয়ে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনেরা।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, চিকিৎসক নয় রোগীর পরিবারের সদস্যরাই খারাপ আচরণ করেছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক অন্য রুমে রোগীদের সেবা দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে তারা অশোভন আচরণ করেন। একজন রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে বিদায় করা কতটা শোভনীয় প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

আনোয়ারা বেগমের বড় ছেলে আবদুল্লাহ আল হারুন জানান, উপজেলার চাতরী গ্রামে তাদের বাড়ি। বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছ আগেই মারা গেছেন। মা আনোয়ারা বেগম হৃদরোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার বিকালে তাকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে দেখেন ডাক্তারের পরিবর্তে সহকারীই রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন। তার মায়ের হৃদরোগজনিত সমস্যা থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক-কে অনুরোধ করেন তিনি যেন দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। বিষয়টি চিকিৎসক অন্যভাবে নিয়ে বকাঝকা শুরু করেন। এক পর্যায়ে বলে দেন তিনি চিকিৎসা দিতে পারবেন না ।

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে এত আন্তরিক, সেখানে আমাদের চিকিৎসকের দৃষ্টিভঙ্গি এমন কেন আক্ষেপ করে বলেন আনোয়ারা বেগমের ছেলে আবদুল্লাহ আল হারুন।

আনোয়ারা হাসপাতালে চিকিৎসানা পেয়ে পরে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে তার মায়ের চিকিৎসা করেন বলে জানান তিনি।

চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. তুলি দত্ত সারাবেলাকে জানান, অভিযোগটি একেবারে ভিত্তিহীন। মায়ের অসুস্থতায় সন্তানের মনের অবস্থা কী হতে পারে আমিও বুঝি। আমার শিশু সন্তানের চার বার অপারেশন হয়েছে। এসব মানবিক বিষয় মাথায় নিয়ে আমরা প্রতিদিন সেবা দিচ্ছি। রোগীর ছেলে রীতিমত মারমুখি হয়ে আমার দিকে তেড়ে এসেছিল। সেবা দিতে গিয়ে এমন অসম্মাজনক আচরণ কষ্টদায়ক। তার এমন আচরণের পরেই আমি রি-অ্যাক্ট করতে বাধ্য হই। তিনি বলেন, আনোয়ারা বেগম ছিলেন বহির্বিভাগের রোগী। হাত ব্যথা, পা ব্যথা এসবই ছিল উনার মূল সমস্যা। আমি ব্যবস্থাপত্রের জন্য রোগের `হিস্টিরি‘-ও লিখেছি। তারপরও চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ ভীষণ অস্বস্থিকর।