রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

জুলুছে জোহরের নামাজে দেরি, বৃষ্টিতে ভোগান্তি

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৯:২৬ পিএম

জুলুছে জোহরের নামাজে দেরি, বৃষ্টিতে ভোগান্তি

চট্টগ্রামে রোববার জোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় ১১টা ৩৭ মিনিটে। শেষ সময় ছিল বিকাল ৩টা ৩৬ মিনিটে। সাধারণত বেলা একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বেশিরভাগ মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় হয়ে থাকে। কিন্তু রোববার জশনে জুলুছের পর ষোলশহরে জুলুছ মাঠে জোহরের নামাজ আদায় হয়েছে ওয়াক্তের একেবারে শেষ মুহুর্তে, বিকাল ৩ টা ২০ মিনিটে। নামাজের পর সুন্নত, নফল নামাজ আদায় শেষে মুনাজাত করতেই পার হয়ে যায় ওয়াক্ত।

এ নিয়ে জুলুছে অংশ নেওয়া অনেকে জুলুছের আয়োজকদের অদূরদর্শিতাকে দায়ি করে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

দেরিতে নামাজ আদায় ছাড়াও অখ্যাত এক বক্তার দীর্ঘ বক্তৃতা, বেলা দুইটার পর বক্তৃতা পর্ব দীর্ঘায়িত করা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অহেতুক বিলম্বে দফায় দফায় ভোগান্তিতে পড়ে জুলুছের মাঠে হাজির থাকা লাখো মানুষ। এছাড়া জুলুছ মাঠের বাইরে সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যায় আশপাশের রাস্তা কিংবা ভবনে যারা নামাজে দাড়িয়েছেলেন তাদের অনেকেই ইমামের তকবির শুনতে পান নি বলে অভিযোগ করেছেন।

সংশ্রিষ্ট সূত্র জানায়, আওলাদে রসুল আল্লামা তাহের শাহ‘র নেতৃত্বে রোববারের জশনে জুলুছে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ সামিল হন। এসব ভক্ত মুরিদানের মধ্যে অতি ক্ষুদ্র অংশ ষোলশহরে জুলুছ মাঠ ও জামেয়া আহমদিয়া মাঠে এসে জোহরের নামাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। কারণ জুলুছ জমায়েতের দুই মাঠ মিলিয়ে ধারণ ক্ষমতা দেড় লাখের বেশি নয়। এর বাইরে আশপাশের রাস্তা, বাসা-বাড়ি যে যেখানে পারেন দাড়িয়ে হুজুর কেবলার ইমামতিতে জোহরের নামাজে অংশ নেন।

এবার বৈরি আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর আঘাতের কারণে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বৃষ্টির কারনে মাঠ ছিল ভেজা। তাছাড়া মাঠের সম্মুখভাগ ছাড়া পুরো অংশ ছিল থ্রিপলবিহীন। যে কারণে বার বার ভিজতে হয়েছে মুসল্লিদের।  

জুলুছে অংশগ্রহণকারী অনেকের অভিযোগ, জুলুছের ব্যানার ও প্রচারপত্রে সকাল ৮টায় জুলুছ শুরুর কথা বলা হলেও সুন্নিয়া মাদ্রাসা পেরিয়ে আল্লামা তাহের শাহর গাড়ি মুরাদপুর পৌঁছতেই পেরিয়ে যায় সাড়ে ১০টা। বেলা দুইটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরী মোটামুটি বৃষ্টিমুক্ত থাকলেও জুলুছ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আবহাওয়ার বিষয়টি সেভাবে গুরত্ব দেয়া হয়নি ।যথাসময়ে জুলুছ শুরু করা গেলে জোহরের নামাজ সময়মত শেষ করে দূরদূরান্তের মানুষ বৃষ্টির বাগড়া এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যেত বলে তারা দাবি করেন। 

জানা যায়, বেলা সোয়া দুইটার দিকে জশনে জুলুছ শেষ করে হুজুর কেবলা ষোলশহরে জুলুছ মঞ্চে এসে পৌঁছান। এর মধ্যে চলতে থাকে বক্তৃতা পর্ব। এর আরো এক ঘন্টা পর ৩টা ২০ মিনিটে শুরু হয জোহরের নামাজ। ততক্ষণে অন্তত ৮/১০ বার মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজতে হয় মুসল্লিদের।

লোকমান সিদ্দিকী নামে এক মুসল্লি অভিযোগ করে বলেন, হুজুর কেবলা মঞ্চে এসে পৌঁছার পরও মাওলানা হাফেজ মনিরুজ্জামান নামে এক বক্তা আধা ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বক্তৃতা চালিযে যাচ্ছিলেন।বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়া মুসল্লিরা এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওই বক্তাকে সরে যেতে বলেন। সবাই তাড়াতাড়ি জোহরের নামাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দিচ্ছিলেন।তখন জোহরের ওয়াক্ত প্রায় শেষ প্রান্তে। বৈরি আবহাওযার মধ্যে জোহরের নামাজে এত বিলম্ব মোটেও ঠিক হয় নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আয়োজক কর্তৃপক্ষের অহেতুক বিলম্বের কারণে মুসল্লিরা বিকালে মুষলধারে বৃষ্টির ভোগান্তিতে পড়েছেন।

নামাজের আগে দীর্ঘ বক্তৃতা দেওয়া ঢাকা কাদেরিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা হাফেজ মনিরুজ্জামান অবশ্য বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, হুজুর কেবলা মঞ্চে আসার আগে তিনি কয়েক মিনিট বক্তৃতা করেন। মঞ্চে আসার পর হুজুর অযু ও ইস্তিনজার ভেতরে যাওয়াতে ব্যবস্থাপনা কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে বক্তৃতা চালিয়ে নিতে বলা হয়। তিনি বলেন, মানুষ বিরক্ত হচ্ছিল, সরে যাওয়ার জন্য হাতে ঈশারা করছিল-সব আমি বুঝতে পেরেছি।  হুজুর কেবলা আসার জন্যই বক্তৃতা দীর্ঘায়িত করা হয়েছিল।

এ সময় জুলুছ মঞ্চে ছিলেন খ্যাতনামা আলেমেদ্বীন, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়ার অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ অসিউর রহমান। তিনি বলেন, জোহরের নামাজ শেষ করার পরও আরো ১৫ মিনিট ওয়াক্ত ছিল। নামাজ মাকরূহ বা কাযা হয়নি।তবে সুষ্টু ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যতে আরো মনোযোগি হবেন বলে জানান তিনি।