বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

আবরার আর ফিরবে না কখনো

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার, ১২:১১ পিএম

আবরার আর ফিরবে না কখনো

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় নিজ বাসার সামনে আবরারের তৃতীয় জানাজা শেষে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া কুমারখালী রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে, ভোরে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসার সামনে অনুষ্ঠিত হয় আবরারের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর, কুমারখালীর রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয় আবরারের মরদেহ।
ভোরে মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার রাতে, বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রথম দফা জানাজা শেষে আবরারের মরদেহ নিয়ে রওনা দেন তার বাবা।

সোমবার রাতে আবরারের লাশ তার বাবার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন।

এই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহ-সভাপতি মোস্তাকিম ফুয়াদসহ এ পর্যন্ত ৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল সোমবার বুয়েট ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

ফাহাদের সহপাঠীদের অভিযোগ, ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।