শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রেমের টানে সৌদিআরব থেকে আনোয়ারায়, বিয়ে অতপর...

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০১৯ শনিবার, ০৯:১৮ পিএম

প্রেমের টানে সৌদিআরব থেকে আনোয়ারায়, বিয়ে অতপর...

পরিবারের অভাব ঘুচাতে দুই বছর আগে নাসরিন আক্তার রিয়া (৩৫) গিয়েছিলেন সৌদি আরব। ১৫ বছরের বিবাহিত জীবনে তার দুই মেয়ে এক ছেলে। সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া গ্রামের মো. মনচুর আলমের (২৮) ।

পরিচয় থেকে প্রেম। প্রেমের টানে সৌদি আরব থেকে সরাসরি আনোয়ারা বরুমচড়া গ্রামের মনচুরের বাড়িতে চলে আসে রিয়া। এক লক্ষ টাকা দেন মোহরে বিয়ে করেন মনচুরকে।  দ্বিতীয় বিয়ের মাত্র ৫ মাসের মাথায় মারা গেলেন রিয়া।

হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু এ নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে ধুম্রজাল। রিযার পরিবার বলছে এটি হত্যাকান্ড। এদিকে সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশ স্বামী মনচুর ও শ্বাশুড়ি বাচু আকতারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মনসুর বরুমচড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আব্দুচ সবুরের পুত্র ।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহামুদ জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক। আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার রাতে নাসরিন আকতার রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করে। শনিবার রিয়ার মৃতদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে মৃতদেহের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের  রিপোর্ট ও রিয়ার পরিবারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

আনোয়ারা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায, ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার পর ৫ মাস আগে মনচুর আলমের সঙ্গে নাসরিন আক্তার রিয়ার বিয়ে হয়। নাসরিন আক্তার চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের মো.আবুল হাশেমের প্রথম কন্যা। বিয়ের পর থেকে রিয়া শশুর বাড়িতে থাকতেন।  গত ১৬ আগষ্ট বিকালে মুমুর্ষ আবস্থায় স্বামী শাশুড়ি সহ পরিবারের লোকজন রিয়াকে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে। এ অবস্থায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ আনোয়ারা থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানালে পুলিশ এসে স্বামী শাশুড়িসহ রিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

থানা সূত্রে আরো জানা যায়, ১৫ বছর আগে নাসরিন আকতারের সাথে বরিশাল জেলার দৌলদী থানার নওপাড়া বাহদুর এলাকার মো.রফিকের প্রথম বিবাহ হয়। ঐ ঘরে নাসরিন আকতারের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের অভাব অনটন ঘোছাতে দুই বছর আগে নাসরিন আকতার সৌদি আরবে চাকরী নিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে ফেইসবুকে সম্পর্ক হয় আনোয়ারার বরুমচড়ার মনচুর আলমের সাথে। সম্পর্কের সূত্রধরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ৫ মাস আগে নাসরিন আকতার সৌদি আরব থেকে সরাসরি মনচুর আলমের কাছে চলে আসে। মনচুরের পরিবারের সম্মতিতে ১ লক্ষ টাকার দেনমোহরে বিবাহ হয়।

মনচুর আলমের মা বাচু আকতার জানায়, আমার ছেলের সাথে ফেসবুকে নাসরিন আকতার রিয়ার সম্পর্ক হয়। শুক্রবার বিকালে রিয়ার ঘরে গিযে দেখি সে অসুস্থ। এরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। 

নাসরিন আকতারের বাবা আবুল হাশেম মুন্সী জানান, আমার মেয়ের ১৫ বছর আগে বরিশালের মো. রফিকুল ইসলামকে বিয়ে করে। ২ বছর আগে মেয়ে সৌদি আরবে চাকরির জন্য যায়। গত ১৫ আগষ্ট সন্ধা সাড়ে ৭ টায় একটি অপরিচিত ফোন নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে বলে, "বাবা আমাকে বাঁচাও"। এর পর ঐ নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। আর শনিবার সকালে আনোয়ারা থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পায়, আমার মেয়ে আর নেই।