বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

জুতার দাম ৩ হাজার, চামড়া ৩শ‘

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার, ০২:২৫ পিএম

জুতার দাম ৩ হাজার, চামড়া ৩শ‘

কুরবানির পর এবার চট্টগ্রামে অনেক এলাকায় পশুর কাঁচা চামড়া কেনার লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।  তবে,   মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজন বিনা পয়সায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন। বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। চট্টগ্রামে গড়ে প্রতিটি চামড়া বিক্রি হযেছে ৩শ‘ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৩১ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম দিচ্ছেন ২শ টাকারও কম। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকা।

প্রসঙ্গত, বিগত বছরগুলোতে নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর ভিড় দেখা গেলেও এবার তাদের দেখা মেলেনি।

ঈদের দিন সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে সরেজমিন চাকতাই, বহদ্দারহাটসহ এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া রাস্তায় পড়ে আছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত কোরবানি সম্পন্ন হওয়া পশুর চামড়াগুলো কেনার জন্য তখনও কেউ আসেননি।

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী,  কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এবার ফড়িয়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে না। কোথাও কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কৌশলে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষায় রেখে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেনা ৩ শ টাকার চামড়া আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে ৬শ থেকে ৭শ টাকা দরে।
ঢাকা থেকে নির্ধারণ করে দেয়া দর অনুযায়ী ২০ বর্গফুটের একটি চামড়ার দাম হওয়ার কথা ৬০০ টাকা। তাও আবার লবণ মিশ্রিত চামড়া। লাভের আশায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাসা-বাড়ি থেকে চামড়া কিনেছেন ৩শ থেকে ৪শ টাকা দরে। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তারা।

মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বলেন, `মাল যদি ৭০ হাজার টাকার কেনা থাকে সেখানে ৫০ হাজার টাকাও থাকবে না। মানুষ পাড়া মহল্লায় গিয়ে চামড়া কিনছে, তার অর্ধেক দামেও বিক্রি হচ্ছে না।`

আড়ৎদাররা সরাসরি চামড়া না কেনায় মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা পরিবহনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দাম কমাতে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার দু`পাশে হাজার হাজার পিস চামড়া নিয়ে বসে থাকতে বাধ্য করে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।

তারা বলেন, `ওরা এখন মাল কিনছে না। হয়তো ৪শ` টাকা হলে কিনবে। আর আমাদের কেনা পড়ছে ৫শ` টাকা। এক জোড়া জুতার দাম পরে ৩ হাজার টাকা আর একটা চামড়ার দাম ৩শ` টাকা।`

মাত্র কয়েক ঘন্টা অপেক্ষায় রেখে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আড়তদাররা।
তারা বলেন, `আমরা ট্যানারি থেকে টাকা পাইনি। আমরা কোন সিন্ডিকেট করিনি। চামড়া বিক্রি করে লস, চামড়া কিনে লস।`

চট্টগ্রামের ট্যানারি দু`টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে হয় এখাকানকার আড়তদারদের। আর ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে গত বছরের বকেয়া রয়ে গেছে ২০ কোটি টাকার বেশি।