বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

দাম ও ডেঙ্গু : গরুর হাটে দুই ভয়

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০১৯ বুধবার, ০৮:৫৬ এএম

দাম ও ডেঙ্গু : গরুর হাটে দুই ভয়

ঈদের বাকী আর এক সপ্তাহ। হাটে ইতিমধ্যে আসতে শুরু করছে পশু। সেই সঙ্গে কুরবানি পশুর যত্ন ও বিক্রির জন্য রাত দিন হাটেই কাটাতে হচ্ছে বেপারিদের। অনেক ব্যবসায়ী বন্যার কারণে গরু রাখতে সমস্যা হওয়ায় একটু আগেভাগেই হাটে গরু নিয়ে এসে আতঙ্কে দিন পার করছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে আছেন গরু বেপারিরা। যদিও নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোর দাবি করেছে হাট কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামের সিডিএ মার্কেটে কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসেন নইমুল ইসলাম। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে গরু নিয়ে পড়ে আছি। গরুর পাশে খাওয়া, গরুর পাশে ঘুমানো। এখানে কত মশা যে কামড়ায় তার কোন ঠিক নাই। আল্লাহর উপর ভরসা করে পড়ে আছি। তিনিই রক্ষাকর্তা।

একই কথা বিবির হাটের গরু ব্যাপারি আবুল হোসেনের। তিনি বলেন, হাটে আসার পর গরুর দিকে নজর থাকে। নিজের দিকে নজর দেওয়ার সময় কোথায় !

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের  তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ঈদে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ। এবার এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ। এগুলোর মধ্যে ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু ও মহিষ, ৭২ লাখ ছাগল-ভেড়া এবং ৬ হাজার ৫৬৩টি অন্যান্য গবাদি রয়েছে। এর মধ্যে ঈদুল আজহায় ১ কোটি ১৮ লাখ গবাদিপশুর মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ পশুর কোরবানি হতে পারে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় আট লাখ গবাদিপশু বেশি রয়েছে।

চাহিদার তুলনায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু বেশি হওয়ায় ভারতীয় গরু না আসলেও এবার বাজারে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে মনে করা হচ্ছে। আবার শেষ মুহুর্তে চোরাই পথে ভারতীয় গরু ঢুকলে তাতে বাজারে দাম অনেকাংশে কমে যাবে এই শংকায় আছে বেপারিদের। দামের সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ও কাজ করছে তাদের মধ্যে।

ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে,  ডেঙ্গুর জন্য পশুর হাটগুলোতে ধূপের ধোঁয়া দিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে করে মশা তাড়াতে হবে। হাটের পাশে ডোবা-নালায় প্রতিদিন কমপক্ষে তিনবার মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে।

তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও তাতে গরুর আক্রান্ত হওয়া বা মাংস খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন এডিস মশার ওপর পিএইচডি ডিগ্রিধারী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. তাহসিন ফারজানা।

ড. তাহসিন ফারজানা বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগ সাধারণত মানুষেরই হয়। এছাড়া বানর প্রজাতি এবং চীনে কুকুরের মাঝেও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু পাওয়া গেছে। তবে গরু, মহিষ, ছাগলসহ অন্য কোনও প্রজাতির পশুর মাঝে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গরুর যেহেতু ডেঙ্গু জ্বর হয় না, তাই গরুর মাংস খেতে কোনও সমস্যা নাই।’