রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯

চট্টগ্রামেই আছে ৬৫ শীর্ষ ঋণখেলাপি

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০১৯ শনিবার, ১০:১৫ পিএম

চট্টগ্রামেই আছে ৬৫ শীর্ষ ঋণখেলাপি

জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ যে ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সে তালিকার প্রথম প্রতিষ্ঠানটির নাম সামাননাজ সুপার অয়েল। চট্টগ্রামের কালুরঘাটের এফআইডিসি সড়কে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটির খেলাপিঋণের পরিমাণ এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা। শুধু এক নম্বরের ঋণখেলাপিই নয়, ৩০০ জনের মধ্যে ৬৫ জন শীর্ষ খেলাপিই চট্টগ্রামের।

তালিকার এক নম্বরে থাকা ঋণখেলাপি প্রতিষ্টানটির একই গ্রুপের আরো একটি প্রতিষ্ঠান আছে এই তালিকার  ১২৩ নম্বরে। আর তালিকার সবশেষে রয়েছে চট্টগ্রামেরই আরেক প্রতিষ্ঠান আলী এন্টারপ্রাইজ। আগ্রাবাদের সুরাইয়া ম্যানশনের এই প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি রয়েছে ৬৮ কোটি টাকা।

ঋণ খেলাপিতে দেশের শীর্ষ ৩০০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংসদে প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জানিয়েছেন, শীর্ষ এই ৩০০ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ এই খেলাপিদের কাছে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত পাওনার পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ও শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৫২ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ এম ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদে এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

শীর্ষ ১০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সামানাজ সুপার অয়েল (এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা), গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং (৯৮৪ কোটি), রিমেক্স ফুটওয়্যার লি. (৯৭৬ কোটি), কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লি. (৮২৮ কোটি),  মাহিন এন্টারপ্রাইজ লি. (৮২৫ কোটি), রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার (৭৯৮ কোটি), ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লি. (৭৭৬ কোটি), এস এ অয়েল রিফাইনারি (৭০৭ কোটি), সুপ্রভ কম্পোজিট নিট (৬১০ কোটি) ও গ্রামীণ শক্তি (৬০১ কোটি)।

একইসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা আছে ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। আর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১৭ জন। তাদের নেওয়া ঋণের মোট পরিমাণ ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। তাদের মোট ঋণের মধ্যে বড় একটি অংশ খেলাপি রয়েছে। এর পরিমাণ এক লাখ ১৮৩ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ তালিকায় থাকা চট্টগ্রামের ৬৫টি প্রতিষ্টান হলো (তালিকার ক্রম অনুযায়ী)-
১. সামাননাজ সুপার অয়েল,এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা
৫. মাহিন এন্টারপ্রাইজ, ৮২৫ কোটি টাকা
৮. এসএ অয়েল রিফাইনারি, ৭০৭ কোটি টাকা
১৭. সিদ্দিক ট্রেডার্স, ৫১১ কোটি টাকা
১৮. রুবায়া ভেজিটেবল ওয়েল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড, ৫০১ কোটি টাকা
১৯. রাইজিং স্টিল লিমিটেড, ৪৯৫ কোটি টাকা
২২. ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজ, ৪৬৪ কোটি টাকা
২৮. ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, ৩৭২ কোটি টাকা
৩৩. গ্রান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, ৩২৪ কোটি টাকা
৩৭. সেভেনবি এসোসিয়েটস, ৩০৯ কোটি টাকা
৪৩. এসকে স্টিল, ২৭১ কোটি টাকা
৪৪.মাবিয়া শিপ ব্রেকার্স লিমিটেড, ২৭১ কোটি টাকা
৫০.  তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ইউনিট-২, ২১২ কোটি টাকা
৫১. এইচ স্টিল রিরোলিং মিলস লিমিটেড, ২০৯ কোটি টাকা
৫৪. চিটাগাং সিন্ডিকেট,১৯৮ কোটি টাকা
৬৪. এমকে শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড স্টিলস লিমিটেড,১৮৫ কোটি টাকা
৬৫. মাহমুদ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড ১৮৪ কোটি টাকা
৬৯. ন্যাশনাল স্টিল, ১৮৩ কোটি টাকা
৭৫. সাফারি ট্রেডার্স, ১৭৪ কোটি টাকা
৯০. সগির অ্যান্ড ব্রাদার্স, ১৫৩ কোটি টাকা
৯১. আগ্রাবাদের মাস্টার্ড ট্রেডিং,১৫২ কোটি টাকা
৯৬. আগ্রাবাদের মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রি-সাইক্লিং, ১৫০ কোটি টাকা
৯৯. খাতুনগঞ্জের জালাল অ্যান্ড সন্স, ১৪৯ কোটি টাকা
১০১. পাহাড়তলীর সৈয়দ ফুডস লিমিটেড,১৪৫ কোটি টাকা
১০৪. খাতুনগঞ্জের রহমান শিপ ব্রেকার্স লিমিটেড ১৪২ কোটি টাকা
১১০. জাহিদ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, ১৩৪ কোটি টাকা
১১১.তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ,১৩৩ কোটি টাকা
১২৩.সামাননাজ কনডেন্সড মিল্ক লিমিটেড, ১২৭ কোটি টাকা
১২৪.জুমা এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রাম, ১২৬ কোটি টাকা
১৩২.মীম এন্টারপ্রাইজ,১২০ কোটি টাকা
১৩৯.মনোয়ারা ট্রেডিং,১১৭ কোটি টাকা
১৪০.চিটাগাং ইস্পাত,১১৭ কোটি টাকা
১৪৫.ম্যাক শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড,১১৪ কোটি টাকা
১৫২.সাউথ ইস্টার্ন পেপার মিলস লিমিটেড, ১১১ কোটি টাকা
১৫৫.কনফিডেন্স সুজ লিমিটেড,১০৮ কোটি টাকা
১৫৬.আহমেদ মুজতবা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ, ১০৮ কোটি টাকা
১৫৭.শাপলা ফ্লাওয়ার মিলস,১০৮ কোটি টাকা
১৫৯.হাবিব স্টিলস লিমিটেড,১০৬ কোটি টাকা
১৬৩. সুপার সিক্স স্টার শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড,১০৫ কোটি টাকা
১৬৪.জেড অ্যান্ড জে ইন্টারন্যাশনাল,১০৫ কোটি টাকা
১৬৬.এস শিপিং লাইন, ১০৪ কোটি টাকা
১৭০.সীতাকুণ্ডের শীতল এন্টারপ্রাইজ, ১০২ কোটি টাকা
১৭৩.অনিকা এন্টারপ্রাইজ, ১০১ কোটি টাকা
১৮৫.বিইএনজেড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিডি)লিমিটেড, ৯৬ কোটি টাকা
১৮৬.মাস শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ৯৬ কোটি টাকা
১৮৮.মোহাম্মদ ইলিয়াস  ব্রাদ্রার্স (প্রা.)লিমিটেড, ৯৫ কোটি টাকা
১৮৯.জয়নাব ট্রেডিং কোং লি., ৯৫ কোটি টাকা
২০১.এসকে এন্টারপ্রাইজ ৮৮ কোটি টাকা
২০৪. ফরচুন স্টিল, ৮৭ কোটি টাকা
২০৫.মোস্তফা অয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেড, ৮৬ কোটি টাকা
২০৭.মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেড,চট্টগ্রাম, ৮৬ কোটি টাকা
২২৫.  ইলিয়াস ব্রাদার্স পয় ম্যানুফেক্চারিং প্ল্যান্ট লিমিটেড,৮১ কোটি টাকা
২২৮.ইমাম ট্রেডার্স,৮১ কোটি টাকা
২৩৪.ঝুমা এন্টারপ্রাইজ,৭৯ কোটি টাকা
২৩৬.গ্রান্ডার শিপিং লাইন্স লিমিটেড,৭৮ কোটি টাকা
২৩৮. নর্থপোল বি.ডি লিমিটেড,৭৮ কোটি টাকা
২৪৪.এমএএফ নিউজপ্রিন্ট মিলস লিমিটেড,৭৭ কোটি টাকা
২৫০.শারিজা ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড,৭৬ কোটি টাকা
২৫৫.এমআর শিপিং লাইন,৭৫ কোটি টাকা
২৭১.এহসান স্টিল রিরোলিং মিলস লিমিটেড,৭৩ কোটি টাকা
২৭৩.শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ,৭৩ কোটি টাকা
২৭৭.শাহেদ শিপ ব্রেকিং,৭২ কোটি টাকা
২৮৬.চইস্টার্ন করপোরেশন,৭০ কোটি টাকা
২৮৯.ন্যাশনাল আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড,৬৯ কোটি টাকা
৩০০.আলী এন্টারপ্রাইজ, ৬৮ কোটি টাকা।