বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

আনোয়ারায় হাতির থাবা থেকে জীবন নিয়ে ফিরল শিশুটি

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২১ জুন ২০১৯ শুক্রবার, ১০:৪২ পিএম

আনোয়ারায় হাতির থাবা থেকে জীবন নিয়ে ফিরল শিশুটি

বন্য হাতির আক্রমনে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে আমুর পাড়া এলাকায় এক শিশু আহত হয়েছে। আহত মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (১০) গুয়াপঞ্চক গ্রামের মোহাম্মদ জেবল হোসেনের পুত্র। আহত শিশুকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শুক্রবার রাত আটটায় বাড়ি সামনে হাতি দেখতে পেয়ে ভয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হাতির আক্রমনে তলপেটে গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরর্ত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে কেইপিজেড ও দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে হাতি। দিন দুপুর বা সন্ধ্যায় যখন-তখন হাতিগুলো লোকালয়ে চলে আসে। এ কারণে কেইপিজেডের দায়িত্বরত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও আশপাশের এলাকাবাসীরদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন গাছপালা ও স্থাপনা ভেঙে ক্ষতি করেছে প্রতিদিনই।

এর আগে গত বছরের ১৩ জুলাই আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে হাতির আক্রমণে   আবদুর রহমান (৭০) নামের একজনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। এছাড়া মানুষের ঘরবাড়ি, গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি করছে।

এদিকে বন্য হাতির আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

ভয় কাজ করছে কেইপিজেডের কর্মীদের মধ্যেও।  কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) বর্তমানে ২৩টি কারখানায় আনোয়ারা-কর্ণফুলী ও আশপাশের এলাকার প্রায় সাড়ে ২২ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে আশপাশের অনেকে হেঁটে কারখানায় যান। শ্রমিকেরা হেঁটে যানবাহনে ওঠেন।  দেয়াঙ পাহাড়ে হাতি অবস্থান নেওয়ায় শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে প্রতিনিযত ভয় কাজ করছে।

গত কয়েক মাসে হাতি কেইপিজেডের বনায়ন করা বড়-বড় নারকেল গাছসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান গাছপালা ও বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।

স্থানীয় মোহাম্মদ আবছার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেয়াং পাহাড় থেকে আসা বন্য হাতি গুলো রাতে নেমে আসে লোকালয়ে। ক্ষতি করছে এলাকার মানুষের ঘর বাড়িসহ ফসল। সন্ধ্যার পরই বন্য হাতির দল বিভিন্ন এলাকায় তান্ডব শুরু করে। হাতি গুলো সরিয়ে নিতে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, হাতি গুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বন্য প্রাণী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, হাতি গুলোর বিষয়ে বন বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণের এখনো কোন প্রকার সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।