বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

চট্টগ্রামের সেই জেলারের ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি টাকা

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৯ বুধবার, ০৮:৫১ এএম

চট্টগ্রামের সেই জেলারের ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের সেই জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস ও তার নিতকাত্মীয়দের ব্যাংক একাউন্টে ১৫ কোটি টাকার হিসাব পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোহেল রানা ছাড়াও তার স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালকের ২৬টি ব্যাংক হিসাবে এসব টাকা জমা থাকার তথ্য মেলে।

চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও যশোরের বিভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় এসব টাকার হিসাব রয়েছে বলে জানান ময়মনসিংহ দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, আড়াই কোটি টাকার ব্যাংক এফডিআর, এক কোটি ৩০ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। ওই দিন চট্টগ্রাম থেকে আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন বিরতির সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

এদিকে, গত কয়েকদিন আগে এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আবার পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দুদক অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় ময়মনসিংহ দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক সাধনচন্দ্র সূত্রধরকে। এর আগে এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং পরে দায়িত্ব দেয়া হয় দুদকের উপ-পরিচালক ফারুক আহমেদকে। মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বারবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুদক।

জব্দ করা ২৬টি ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি টাকা লেনদেনের সন্ধান পেয়েছে দুদক। তবে সঠিক হিসাব পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে দুদকের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি ব্যাংকের হিসাববিবরণী তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে বলে জানান মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা।

জেলার সোহেল রানা, তার স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালকের নামের ব্যাংক হিসাব জানতে দুদকের কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলে ২৬টি ব্যাংক হিসাবের তালিকা পাঠায়। তারপর কিশোরগঞ্জ আদালতের অনুমতিক্রমে ওই হিসাবগুলোর লেনদেন জব্দ করে দুদক।

গত ১৫ অক্টোবর গ্রেফতার হওয়ার পর টাকার উৎস জানাতে না পারায় সোহের রানা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভৈরব রেলওয়ে থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। এরপর মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটি রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করে ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়।