বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

সিডিএ’র নকশা না মেনে ভবন , মালিক জেলে

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯ সোমবার, ০৮:১৫ এএম

সিডিএ’র নকশা না মেনে ভবন , মালিক জেলে

চট্টগ্রাম নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের দায়ে এক ভবন মালিককে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। সিডিএ’র স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল আলম চৌধুরী রোববার এই আদেশ দেন। চট্টগ্রামে আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণে এ ধরণের শাস্তির ঘটনা এটাই প্রথম।

চট্টগ্রাম  উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সিডিএ) জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের একটি প্রবণতা রয়েছে। ভবিষ্যতে সবাই যাতে এ ব্যাপারে সতর্ক হয় সেজন্য এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, মোহাম্মদ আবছার নামে নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকার এই ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ১৪ মার্চ মামলা দায়েরের পর ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়। তিনি ছয় তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে পাঁচ তলার কাজ সম্পন্ন করেছেন। পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখা ছাড়াই তিনি কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। উত্তর দিকে এক মিটারের স্থলে ০.৪৩ মিটার, দক্ষিণে ২.১৩ মিটারের স্থলে ০.৪০ মিটার, পূর্বে এক মিটারের স্থলে ০.৩০ মিটার, পশ্চিমে এক মিটারের স্থলে ০.৫০ মিটার জায়গা রাখা হয়েছে। মামলার পর ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে রোববার (২৬ মে) তিনি স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল করিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেলে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। আগামী ৩০ মে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত আছে।

নগরীর প্রায় শতভাগ ভবনই সিডিএর নকশা না মেনে গড়ে তোলার অভিযোগ পুরনো। এই প্রথম এ ধরনের অপরাধে ভবন মালিককে জেলে পাঠানোর ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে আতংক। নির্মাণাধীন এমন ভবনের বিষয়ে অভিযোগ পেলে সিডিএ’র টিম পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বিচারিক ক্ষমতার সিডিএ’র নতুন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব নেওয়ার থেকে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অনেক ভবন মালিককে জরিমানা করেছেন। বেশ কয়েকজনকে নোটিশও দিয়েছেন। নোটিশ অনুযায়ী কেউ হাজির না হলে তার নামে মামলা ও ওয়ারেন্ট ইস্যু করছেন।

ইমারত নির্মাণ বিধিমালা না মানায় সিডিএ’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাউকে জেলে পাঠানো প্রসঙ্গে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, ১৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছিল। রোবার তিনি হাজির হলে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি থেকে সিডিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়। জুডিশিয়াল এ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদলে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

বিচারিক ক্ষমতা পাওয়ার পর বিভিন্ন অভিযানে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা আদালতে ( সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট) এসে শুনানিতে অংশ নিচ্ছে এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে। সাধারণ আদালতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। এখানে সেটি হচ্ছে না।

সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর হাসান বলেন, আবাসিক এলাকাগুলোতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ বেড়ে যাচ্ছে। সিডিএ’র আবাসিক এলাকাগুলোতে অভিযান চালানোর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকাগুলোতেও অভিযান চালানো হবে।  ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী যারা ভবনের কার্নিশ বাড়িয়ে দেবে তাদেরও অভিযানের আওতায় আনা হবে।