বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

চিংড়িকান্ড : এবার পুলিশ উদ্ধার করল সেই গৃহবধুকে

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯ সোমবার, ০৩:৫৫ এএম

চিংড়িকান্ড : এবার পুলিশ উদ্ধার করল সেই গৃহবধুকে

আনোয়ারায় বিয়ের খাবারে চিংড়ি না পেয়ে তুলকালাম ঘটানো সেই চিংড়ি জামাই ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ আবারও থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।  নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিয়ের ৮ মাসের মাথায় ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় সোপর্দ করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ।

আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ জানান, গৃহবধু শারমিন আকতারের বাবা মোহাম্মদ হোসেন তার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুড় পক্ষের লোকজনের নির্যাতনের অভিযোগ করলে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তাকে পিতার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, পরিবার ওই গৃহবধূকে উদ্ধারের জন্য আবেদন করেছে। নির্যাতন বিষয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে মামলা করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা উপজেলার ১১নং জুইদন্ডী ইউনিয়নের ৮নং খুরসকুল গ্রামের হাজী বাড়ীর আবদুল মোনাফের ছেলে মোহাম্মদ আলমগীর (৩০) সাথে একই ইউনিয়নের জুইদন্ডি গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।  এর ১৮ দিন আগে ইসলামী শরিয়ত মতে তাদের আকদ সম্পন্ন হয়।  বটতলী আলভী ম্যারেজ গার্ডেনে প্রীতিভোজের আয়োজন ছিল। সেই প্রীতিভোজে চিংড়ি না দেওয়ায় তুলকালাম কান্ড ঘটায বর আলমগীর। যা সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এরপর নানা সালিশ-বিচারের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে আলমগীর তার স্ত্রীকে ঘরে তুলে নেয়। নির্যাতনের শিকার গৃহবধু শারমিন আকতার জানান, বিয়ের ২৫ দিন পর থেকে স্বামী আলমগীর হোসেন (৩০) দেবর মোঃ আনিছ (২৩), শাশুড়ী জুলেখা খাতুন(৪৬) ও শশুর আব্দুল মোনাফ (৫৫) তাকে নানা ভাবে নির্যাতন করে আসছে। গত তিন মাস আগেও তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়।  বিয়ের পর থেকে তাকে  ঘরে একরকম বন্দী করে রাখা হয়।  বাবার বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না৷গত ২৫ মে শনিবার দুপুরে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলার অপরাধে ঘর থেকে বের করে প্রকাশ্যে মারধর করা হয় । নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে এলাকাবাসী আমার বাবার কাছে খবর দেয়।

পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই আকরামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রোববার রাত ৯টার দিকে গৃহবধুকে শারমিন আকতারকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।