সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

মারাত্মক রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০১ মে ২০১৯ বুধবার, ০৯:৫৬ পিএম

মারাত্মক রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’

মারাত্মক রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি সেখানে থেকে শক্তি সঞ্চয় করছে। এ কারণে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বাড়িয়ে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল। তবে এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ফণী এখনও ভারতের উড়িষ্যার উপকূলে দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এর গতি পরিবর্তন হতে পারে। গতি পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি যদি উড়িষ্যার উপকূলে আঘাত হানে তবে তার প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে খুলনা বিভাগসহ পুরো উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হবে

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, "ঘূর্ণিঝড়টি ৩রা মে ওড়িশা উপকূল অতিক্রম হওয়ার কথা। এর প্রভাবে বাংলাদেশে পরদিন ৪ঠা মে বৃষ্টিপাত হবে অনেক।"

তিনি বলেন, ওড়িশা উপকূল অতিক্রমের পরই বলা যাবে বাংলাদেশে এর কেমন প্রভাব পড়ে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞেরা বলেন, বাতাসের তীব্রতা এবং ধ্বংসক্ষমতা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতে ঘূর্ণিঝড়কে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তাকে ঘূর্ণিঝড় বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯-১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে তীব্র ঘূর্ণিঝড় বা ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন সেটিকে হ্যারিকেন গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় বা ‘ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বলা হয়। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত ‘ফণী’ সুপার সাইক্লোনের একধাপ আগের স্তরের ঝড়ে পরিণত হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে গত ৪৩ বছরে এপ্রিল মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ‘ফণি’ সবচেয়ে শক্তিশালী বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বঙ্গোপসাগরে উষ্ণতার কারণে অনেকটা অস্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট এবং উপকূলে আঘাত হানতে দীর্ঘ সময় নেওয়ায় ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের বরাত দিয়ে বুধবার দ্য হিন্দু জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ এখন অন্ধ্র প্রদেশের ভিশাখাপত্তনম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০০ কিলোমিটার এবং ওডিশার পুরি থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

গত ১৯৭৬ সালের পর এপ্রিলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি শক্তিশালী। যেকোনো সময় প্রবল ঘূর্ণিঝড় ঘণ্টায় বাতাসের গতি ৮৯-১১৭ কিলোমিটার) সৃষ্টি হতে পারে। তবে এগুলো মৌসুমী বায়ুর পর নভেম্বরে, অথবা মৌসুমী বায়ু শুরুর আগে মে মাসে সৃষ্টি হয়।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে জে রমেশ বলেন, “এই ঘূর্ণিঝড়টি বঙ্গোপসাগরে অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে আমাদের এ ধরনের ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সে অনুযায়ী পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে।”

এদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, ওডিশায় আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র অভিমুখ হবে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। এমনিতে ঘূর্ণিঝড়ের আছড়ে পড়ার সময় বাতাসে ঝড়ের গতিবেগ থাকে ৮০-৯০  কিলোমিটারের মধ্যে। তবে অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ অনেক বেশি হবে বলে মনে করা  হচ্ছে।