সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

পটিয়ায় ধর্ষিতা সেই তরুণীর জবানবন্দী বিয়ে জামিনেও অনাপত্তি

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৯:১৩ এএম

পটিয়ায় ধর্ষিতা সেই তরুণীর জবানবন্দী বিয়ে জামিনেও অনাপত্তি

পটিয়ায় বৈশাখী মেলায় বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার সেই তরুণী আদালতে জবানবন্দী দেওয়ার পরদিনই অভিযুক্ত মোহাম্মদ রিপনের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে তরুণীর। অভিযুক্ত রিপন কারাগারে আটক রয়েছে।  বিয়ের বিষয়টি তুলে ধরে বুধবার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আল-ইমরান খানের আদালতে মোহাম্মদ রিপনের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী।

এ সময় বাদীর পক্ষ থেকে কোন আপত্তি না থাকলেও কোর্ট পুলিশ জামিনের আবেদনের বিরোধীতা করে। শুনানী শেষে বিচারক রিপনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে ধর্ষণের শিকার হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন পটিয়ার সেই তরুণী।  ১৭ এপ্রিল বাকলিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ওই নারীর রিকশা চালক ভাই। ২০ এপ্রিল মহানগর হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষিতা বিচারককে জানালেন তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সিএনজি টেক্সি চালক মোহাম্মদ রিপন তাকে ধর্ষণ করেছেন। একইসাথে মান্নান ও নুর নামে রিপনের দুই বন্ধু সহযোগী হিসেবে ছিলেন।

এর একদিন পরেই  ২১ এপ্রিল মোহাম্মদ রিপনের সাথে ওই গার্মেন্টস কর্মীর বিয়ে হল! এরই মধ্যে মোহাম্মদ রিপন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বুধবার বিয়ের সেই কাবিননামা ও বাদীপক্ষের অনাপত্তিপত্রসহ আদালতে উপস্থাপন করে আসামি রিপনের জামিন চাইলেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বয়ান মোহাম্মদ তারেক। কিন্তু মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আল-ইমরান খান জামিনের সেই আবেদন ফিরিয়ে দেন। আসামিপক্ষকে জানিয়ে দিলেন আপাতত: আসামিকে কারাগারেই থাকতে হবে।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, পটিয়া থানা এলাকার ওই গার্মেন্টস কর্মী ১৪ এপ্রিল বৈশাখী মেলায় বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বের হন। পুর্ব পরিচিত মোহাম্মদ রিপন সিএনজি টেক্সিতে করে পটিয়ায় মেলায় কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে। ব্যাগ কিনে দেয়ার কথা বলে রিপন বেলা ২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়া এলাকায় নিয়ে আসেন। এরপর একটি বাসায় তাকে জোর করে ধর্ষণ করে বলে ওই নারীর ভাইয়ের বাকলিয়া থানায় দেয়া এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার সাথে সাথে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে গেলে মান্নান ও নুর তাকে প্রথমে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর ডাক্তাররা তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললে তারা সটকে পড়ে। এরই মধ্যে খবর পেয়ে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া আত্মীয় ও স্থানীয়দের কয়েকজন তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বয়ান মোহাম্মদ তারেক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফোরকান জানান, একটা অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেছে। উভয়ের মধ্যে বিয়েও সম্পন্ন হয়েছে যথানিয়মে। এরপর বুধবার  আদালতে মোহাম্মদ রিপনের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের বিচারক সেই আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।