সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

ব্যতিক্রমী সেবায় পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতাল

রবিউল হোসেন, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার, ০৭:৩০ এএম

ব্যতিক্রমী সেবায় পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতাল

চট্টগ্রামে উপজেলা পর্যায়ে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পটিয়ায় প্রথম প্রতিষ্ঠিত ‘পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতাল’ মধ্যবিত্ত এবং দুস্থ রোগীদের ভরসা হিসেবে কাজ করছে। প্রতিদিন ১৫০-২০০ রোগী সেবা নিচ্ছেন খুব কম খরচে। বাইরে যেখানে পরীক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বিপুল টাকা ব্যয় করতে হয় সেখানে ব্যতিক্রম পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতাল। বছরে ১২০০-১৩০০ দুস্থ এবং গরীব ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামূল্যে সেবাও প্রদান করছে তারা।

পটিয়া ডায়াবেটিক সমিতির পরিচালিত এ হাসপাতালটি ২০০১ সালে সাবেক মহকুমা সদর পটিয়া বিওসি রোডস্থ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। যা প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পার হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধুমাত্র পরীক্ষা ও চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হলেও হাসপাতালটি বৃহৎ  পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সরকারী ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পটিয়ার কয়েকজন সমাজসেবক মিলে গড়ে তুলেন পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতাল। এদের মধ্যে একজন হলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের মহা পরিচালক জামাল উদ্দীন আহমদ। তিনি এই হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। সময়ের ব্যবধানে এ হাসপাতালে রোগীদের ভীড় বাড়তে প্রতিনিয়ত। পটিয়া ডায়াবেটিক সমিতি কর্তৃপ পরিচালিত এ হাসপাতাল প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা আড়াই টা পর্যন্ত তাদের কার্য্যক্রম চালিয়ে থাকে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল হলেই হাসপাতাল ভর্তি হয়ে যায় রোগীদের পদচারনায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হয় খালি পেটে। হাসপাতালে প্রতিদিন দুইজন চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৫ জন সদস্য রয়েছে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য। বর্তমানে টিন সেটের দুইটি ভবনে কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালের যে সক্ষমতা তার চেয়েও বেশি রোগী আসছেন চিকিৎসা নিতে। এজন্য মাঝেমধ্যে হিমশিমও খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এ হাসপাতালে ফাস্টিং, এবিএফ, রেনডম, জিটিটি, এসজিপিটি/এসজিওটি, সিরাম কোলেস্টেরল, সিরাম বিলিরুবিন, লিপিড প্রোপাইলসহ ডায়াবেটিস রোগীদের অন্তত ১৫টি পরীক্ষা করা হয় খুব কম খরচে।

মনোয়ারা বেগম নামের এক রোগী জানান, তিনি ১০-১২ বছর ধরে এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কম খরচে ভালো সেবা পান এ হাসপাতাল থেকে। রাণী দাশ নামের আরেক রোগী জানান, তিনি বোয়ালখালী করলডেঙ্গা এলাকা থেকে এ হাসপাতালে সেবা নিতে এসেছেন। বিগত ৫-৬ বছর ধরে এ হাসপাতালে আসা যাওয়া তার।

হাসপাতালের ম্যানেজার আজগর চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় উপজেলা পর্যায়ে পটিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতাল প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় যা শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। প্রতিদিন এ হাসপাতালে ১৫০-২০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এখানে। অনেক সময় কম বেশিও হয়ে থাকে। শুধু পটিয়া থেকে নয় দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী থেকেও এখানে রোগীরা আসেন।

তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় অনেক কম। যার কারনে মধ্যবিত্ত ও নিুমধ্যবিত্তরা এখানে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। যেখানে বাইরের হাসপাতাল কিংবা প্যাথলজিতে ডায়াবেটিস রোগীদের পরীক্ষার জন্য ৩০০ পর্যন্ত খরচ হয় সেখানে তাদের হাসপাতালে ৭০-১০০ টাকায় সেসব পরীক্ষা করানো হয়। এছাড়াও গরীব ও দুস্থ রোগীদের বিনামূল্যে সেবা দেয়া হয়। যা বছরে ১২০০-১৩০০ পর্যন্ত  হয়ে থাকে।

হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম বলেন, বর্তমানে টিন সেটের দুটি ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এখানে শুধুমাত্র পটিয়ার রোগীরা সেবা নিচ্ছেন তা নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থেকে এখানে রোগীরা আসেন। তাই রোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় রেগে হাসপাতালের কার্যক্রম বৃহৎ পরিসরে করার চিন্তায়  রয়েছে আমাদের। হাসপাতালের জায়গায় একটি ১২তল ভবন করার পরিকল্পনা আছে। যেখানে হাসপাতালের আন্ত: বিভাগ ও বহি: বিভাগ দুটিই রাখা হবে।