সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

গর্ভে ৪ মাসের সন্তান নিয়ে কিলিং মিশনে মনি

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার, ০৮:৫৮ পিএম

গর্ভে ৪ মাসের সন্তান নিয়ে কিলিং মিশনে মনি

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া কামরুন নাহার মনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে পুলিশ।  সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম।
রাফিকে হত্যার সময় নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন মনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, মনি গর্ভে চার মাসের সন্তান নিয়ে অপর তিন পুরুষ সহযোগীর সঙ্গে সরাসরি `কিলিং মিশনে` অংশ নেন। এর আগে পুরুষ সহযোগী শামীম, জাবেদ ও জোবায়েরের জন্য বোরকা ও হাতমোজা কেনেন তিনি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নুসরাতের সহপাঠি ও ঘনিষ্ট বান্ধবীও ছিলেন মনি। অথচ হত্যার সময় নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন তিনি। মামলার আরেক আসামি উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতের পা বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মনি তাকে `শম্পা` বলে ডাকেন। এই `শম্পা` নামটি মনির দেওয়া। এই `কিলিং মিশনে` আর কোনো ছদ্মনাম ব্যবহার হয়নি।

গত শনিবার মনি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এসব জানান বলে উল্লেখ করেন শাহ আলম।

সোমবার দুপরে সোনাগাজী পৌরসভার বাসস্টান্ড সংলগ্ন  কারুন নাহার মনির গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানায়, তিনি পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইমান আলী বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্মকর্তা আবদুল আজিজের মেয়ে। গত বছর একই উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মহদিয়া গ্রামের মেজবাউল খান মিলনের ছেলে রাজু আহাম্মদের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।

নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন নাহার মনিকে গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৭ এপ্রিল তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। গত শুক্রবার মনিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সে সময় মনি নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পিবিআই বোরকার দোকান পরিদর্শন করে। 

গত শনিবার (২০ এপ্রিল)  বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কড়া নিরাত্তার মধ্য দিয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে মনিকে হাজির করে পিবিআই। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দি রেকর্ডের পর রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল।