সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ১১হাজার কনটেইনার লাপাত্তা

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার, ০৯:৩০ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ১১হাজার কনটেইনার লাপাত্তা

চট্টগ্রাম  বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া সাড়ে ১১ হাজার কনটেইনার পণ্য খালাসের তথ্য মিলছে না। বন্দর দিয়ে গত ৩ বছরে আমদানি হওয়া এসব কনটেইনার খালাস হওয়ার দালিলিক তথ্য প্রমাণ নাই কর্তৃপক্ষের কাছে। জালিয়াতি আর রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে খালাস হয়েছে এসব পণ্য সামগ্রি। এমন তথ্য শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের। এইসব কন্টইনারে আমদানি নিষিদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিযুক্ত কোনো পণ্য আমদানি হতে পারে বলেও সন্দেহ তাদের।

বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত আমদানিককারক, বন্দর ও শুল্ককর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা কন্টেইনারভর্তি মালামাল উপযুক্ত শুল্ক পরিশোধ করে খালাস হওয়ার কথা। কিন্তু বন্দরের একটি সংঘবদ্ধচক্র কিছু অসাধু শুল্ক ও বন্দর কর্মকর্তার যোগসাজশে মিথ্যা ঘোষনায় অন্তত সাড়ে ১১ হাজার  কন্টেইনারের মালামাল উপযুক্ত রাজস্ব পরিশোধ ছাড়াই খালাস করে নেয়।

সম্প্রতি অনলাইন শুল্কায়ন পদ্ধতি এ্যাসাকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তারা জানতে পারে চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ হাজার ৪৯৯, কমলাপুর আইসিডিতে ৩৫৫, মোংলা বন্দরে ৫৩ ও পানগাঁও বন্দরে ২৪ কন্টেইনারের পণ্য খালাসের কোন দালিলিক তথ্য নেই। অথচ এইসব কন্টেইনার ঠিকই দুই বন্দর দিয়ে দেশে ঢুকেছে বলে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে। তবে পণ্য খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। বাস্তবে বন্দর কিংবা ডিপোতেও নেই এইসব কন্টেইনার। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বললেও কন্টেইনারগুলো যে বন্দরে নেই সরাসরি তা স্বীকার করছে না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, শুল্ক দুর্নীতিতে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

মদ ও সিগারেটের ৩৫০ ভাগ উচ্চশুল্কের কিছু কন্টেইনার চিহ্নিত করে এসব খালাস না করার জন্য বন্দর ও কাষ্টমস হাউজকে চিঠি দেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কিন্তু সংঘবদ্ধ চক্রটি সেই চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাবার আগেই সন্দেহজনক কন্টইনারের পণ্য খালাস করে নেয় জালজালিয়াতির মাধ্যমে। আর এতে সরকার বঞ্চিত হয় বিপুল অংকের রাজস্ব আদায় থেকে।

জালজালিয়াতির মাধ্যমে কন্টেইনার পাচারের ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় এরই মধ্যে নিয়মিত মামলা করেছে শুল্ক গেয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।