বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

কর্ণফুলীতে একটি সেতুর জন্য অপেক্ষা...

রবিউল হোসেন, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১০:০৩ পিএম

কর্ণফুলীতে একটি সেতুর জন্য অপেক্ষা... ডোনার খালের এই অংশে সেতুটি নির্মিত হলে বদলে যাবে পুরো এলাকার চেহারা

কর্ণফুলী নদীর একপাশে দেশের অর্থনীতির হৃদপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দর। অন্যপাশে বিচ্ছিন্ন এক জনপদ ডাঙ্গারচর। নগরে প্রবেশের জন্য গ্রামটির মানুষদের ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটের নৌকাই সবচেয়ে জনপ্রিয়। বন্দরের আলো পড়লেও উন্নয়নের আলোতে পিছিয়ে থাকা জনপদটির যোগাযোগে নতুন দিগন্ত তৈরি করবে ডোনার খালের একটি সেতু।

কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নে ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটে নৌ-দূর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানির ঘটনায় আবারো আলোচনায় ওঠে এসেছে ডাঙ্গারচরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডোনার খালের এ সেতু। ডোনার খালে সেতু নির্মাণের জন্য ছয় মাস আগেই সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন কর্ণফুলী-আনোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। বর্তমানে খালের উপর সেতু নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের জনসাধারণ এবং প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরে আসা যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে নৌকাকে ব্যবহার করে। কিন্তু ডাঙ্গারচর-সল্টগোলা ঘাটটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে ঘটছে প্রাণহানি। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল ডাঙ্গারচর থেকে চরপাথরঘাটা ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে যাওয়া ডোনার খালের উপর একটি সেতু নির্মাণ করার। ইতিমধ্যে বর্তমান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর (তৎকালিন প্রতিমন্ত্রী) সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডোনার খালের উপর সেতুসহ আরবান আলী রোড, বিএফডিসি ফিসারিজ সেন্টার ও ডায়মন্ড সিমেন্ট কারখানা পর্যন্ত সড়ক বর্ধিত করার জন্য ডিও লেটার দেন। সেতুটি নির্মাণ হলে ডাঙ্গারচর এলাকার জনসাধারনের চট্টগ্রাম নগরীতে যাতায়াতে একদিকে সময় বাঁচবে, কমবে দূরত্বও। এতে নৌপথে যাতায়াত করবে এবং দূর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে।

স্থানীয় ডাঙ্গারচরের বাসিন্দা ও জুলধা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ডাঙ্গারচর এলাকা থেকে সড়ক পথে নগরীতে যেতে ফকিরনীরহাট-শিকলবাহা ক্রসিং এবং মইজ্জ্যারটেক হয়ে নতুন ব্রীজ দিয়ে নগরে যেতে হয়। এতে ডাঙ্গারচর থেকে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। কিন্তু ডোনার খালে সেতু হলে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত দূরত্ব দাঁড়াবে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দূরত্ব কমবে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে সেতুটি দ্রত নির্মাণের দাবী জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, জুলধা ডাঙ্গারচর এলাকায় সাধারণ মানুষের বসবাস ছাড়াও অনেক ভারী শিল্পকারখানা রয়েছে। কিন্তু উপযোগী রাস্তা নেই। এছাড়াও নৌ-পথে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। স্থানীয়দের সুবিধার্থে ভূমিমন্ত্রী ডাঙ্গারচর ডোনার খালের উপর সেতুসহ একটি সড়ক নির্মাণের জন্য ডিও লেটার প্রদান করেছেন। সেতুসহ সড়কটি নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভূমিমন্ত্রী মহোদয়ের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ডোনার খালের উপর সেতুসহ সড়ক নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট এবং সার্ভেয়ার শেষ করেছে। সয়েল টেস্ট এর প্রতিবেদন আসলে ডিজাইন করে একটি ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে খালের উপর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।