বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

দশ বছরেই পুরনো রূপে ফিরবে কর্ণফুলী

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৯:১৭ এএম

দশ বছরেই পুরনো রূপে ফিরবে কর্ণফুলী

আগামী দশ বছরের মধ্যে কর্ণফুলীকে পুরনো রূপে ফেরাতে মহাপরিকল্পনার খসড়া চুড়া করেছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ খসড়া অনুমোদন হয়।

মহাপরিকল্পনাকে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’, ‘স্বল্প মেয়াদী’, ‘মধ্যমেয়াদী’ এবং ‘দীর্ঘ মেয়াদী’ পরিকল্পনায় ভাগ করা হয়েছে।  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর।  প্রাথমিকভাবে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। নদী দখলমুক্ত করা হচ্ছে, ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজও শুরু হয়ে গেছে।  এরপর ওয়াসার নেতৃত্বে স্যানিটেশনের কাজ শুরু হবে। দূষিত পানি যেন নদীতে না যায় সেজন্য স্যুয়ারেজ লাইনও ঠিক করার কথা রয়েছে এই মহাপরিকল্পনায়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন বর্জ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। বর্জ্য যাতে নদীতে এখানে-সেখানে ডাম্প করা না হয় সেজন্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা নিতে কাজ করছি।

নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ১০ বছরের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে ড্রেজিং করতে হবে। পলি পড়ে নদীর বেডগুলো উঁচু হয়ে গেছে। সেগুলো আগের জায়গায় নিতে হবে। পানি দূষিত হয়ে গেছে, পানি ট্রিট করতে হবে। পানিতে আর যাতে দূষিত পদার্থ না যায় সেজন্য সোর্সগুলো বন্ধ করতে হবে।

পাশাপাশি গৃহস্থালী ও শিল্প বর্জ্য যাতে আর নদীতে না যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পরিকল্পনায় রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্জ্য সংগ্রহ করে আমরা ডিসপোজাল করে দেব। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে তা ওয়ার্কিং গ্রুপ নির্ধারণ করবে বলে জানান তাজুল। তিনি বলেন, ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজগুলো ভাগ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবে। ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক।

এখন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলীসহ ঢাকার চারপাশের নদীর জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি সংক্রান্ত কমিটির সভা গতকাল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কর্ণফুলী রক্ষায় প্রস্তুতকৃত মাস্টারপ্ল্যানটি প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। সেটি এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন হলেই কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে দখল হয়ে যাবে; তা হবে না। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দখলমুক্ত কর্ণফুলীর তীর সাজানো হবে।’

এদিকে কর্ণফুলীর তীরে প্রথম দফায় উচ্ছেদ অভিযানে ১০ একর ভূমি উদ্ধার করা হলেও এখনো প্রায় ২৫০ একর ভূমি বেদখলে। সেখানে ১৮ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব ভূমি উদ্ধার না করে অভিযান থমকে যাওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে প্রভাবশালীদের চাপের কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কর্ণফুলীর তীরে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এখন বন্দর কর্র্তৃপক্ষের তৈরি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের অপেক্ষা।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্ণফুলীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ২ হাজারের অধিক স্থাপনা উচ্ছেদের পর সেখানে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। মাস্টারপ্ল্যানে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর সেখানে উন্নয়ন কাজ সমন্বয় করার জন্য একটি ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫ দিন জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্ণফুলীর তীরে উচ্ছেদ অভিযান চলে। অভিযান শেষে নদী তীরবর্তী নগরের পতেঙ্গা থেকে মোহরা পর্যন্ত জরিপ চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে গত ১৫ এপ্রিল আপিল বিভাগ উচ্ছেদ বন্ধের আবেদন খারিজ করায় কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সসহ কর্ণফুলী তীরের সব অবৈধ স্থাপনা ভাঙতে আর কোনো বাধা নেই।