সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

পটিয়ায় সড়কের পাশে ১৭ স্কুল, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

রবিউল হোসেন, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার, ১০:৫২ পিএম

পটিয়ায় সড়কের পাশে ১৭ স্কুল, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলা বান্দরবান এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। এ সড়কে কয়েক কয়েক হাজার ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে। সড়কের প্রশস্ততা কম এবং আকাঁবাকা হওয়ায় প্রায় সময় দূর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ মহাসড়কের পটিয়া অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের পাশেই রয়েছে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করে। এতে করে প্রায় সময় ছোট বড় দূর্ঘটনা ঘটে ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণহানি ঘটে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসদরের আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়েল গেইট এলাকায় মহাসড়ক পারাপারের সময় বিদ্যালয়ের দুই ছাত্র গুরুত্বর আহত হয়। পরে স্কুলের ছাত্ররা প্রায় এক ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে। এর আগে মহাসড়কের পটিয়া অংশে শান্তিরহাট, হুলাইন, ইউনিয়ন কৃষি স্কুল, চক্রশালা উচ্চ বিদ্যালয় ও মোজাফফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় বেশ কয়েকটি দূর্ঘটনায় কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল। এ কারনে দাবী উঠেছে মহাসড়কের পটিয়া অংশে সড়কের পাশের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এসব এলাকায় ফুটওভারব্রীজ নির্মাণের। স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে মহাসড়কের কর্ণফুলীর কলেজবাজার ও মইজ্জ্যারকেট এলাকায় দুটি ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অবশ্যই কর্ণফুলী অংশে শুধুমাত্র শিকলবাহা কলেজ বাজার এলাকায় এজে চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, এজে চৌধূরী বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ও মধ্যম শিকলবাহা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পারাপারে ফুটওভারব্রীজ নির্মাণে দাবী উঠেছিল।

সরেজমিনে মহাসড়কের পটিয়া অংশ ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া ক্রসিং থেকে মোজাফফরাবাদ পর্যন্ত মহাসড়কের পাশেই ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শান্তিরহাট এলাকায় কুসুমপুরা উচ্চ বিদ্যালয়, কুসুমপুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিণখাইন এলাকায় চিটাগাং আইডিয়্যাল হাই স্কুল, হুলাইন এলাকায় হুলাইন পাইরোল উচ্চ বিদ্যালয়, পাইরোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহগদী মার্কেট এলাকায় লড়িহরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, কাগজী পাড়া এলাকায় আল্লাই কাগজী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসদরের থানার মোড় এলাকায় আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহছেনা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, পৌরসভা এলাকায় প্রাইমারী ট্রেনিং সেন্টার, পিটিআই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা, কচুয়াই চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, খরনা মোজাফফরাবাদ এনজে উচ্চ বিদ্যালয়, মোজাফফরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। আবার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে মহাসড়কে নেই কোন স্পীড ব্রেকার এবং নেই কোন সিগন্যাল বাতি। একারনে প্রতিনিয়ত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পারাপার হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।

অন্যদিকে পৌরসদরের আবদুর রহমান সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যায়ল, খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা পৌরসদরের পোস্ট অফিস, মুন্সেফ বাজার ও থানার মোড় আসা যাওয়া করে। এসব জায়গাগুলো আবার ব্যস্থতম এলাকা। কথা হলে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানায়, অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে তাদের শিক্ষার্থীরা সড়ক পারাপার হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া জরুরী।

এ ব্যাপারে কথা হলে কুসুমপুরা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিগত দুই বছর আগে শান্তিরহাট এলাকায় মহাসড়ক পারাপারের সময় কুসুমপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকও দূর্ঘটনার শিকার হয়। আমরা বেশ কয়েকবার সড়ক ও জনপথ বিভাগকে মৌখিক এবং লিখিত ভাবে জানিয়েছে যে, শান্তিরহাট এলাকায় নিরাপদ পারাপারের জন্য যেন ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ করে দেয়া হয়। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। বর্তমানে কুসুমপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। যাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মহাসড়ক পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। মহাসড়কের পাশে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পারাপার নিরাপদ হবে।

এ ব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প হাতে নেয়ায় এখন ফুটওভারব্রীজ নির্মাণের বিষয়ে বলা যাচ্ছে না। চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তখন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যস্থতম এলাকায় ফুটওভারব্রীজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মহাসড়কের পটিয়া অংশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সেবসব স্থানে স্পীড ব্রেকার নির্মাণসহ নিরাপদ সড়ক পারাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাঈনুদ্দীন বলেন, সড়ক পারাপার নিরাপদ করা অত্যন্ত জরুরী। যেতেহু মহাসড়কে বড় বড় যানবাহন চলাচল করে। শিক্ষার্থীদের পারাপার নিরাপদ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই ফুটওভারব্রীজ নির্মাণের বিষয়টি উপজেলার সভায় আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।