বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯

চট্টগ্রাম ঢাকা ও ময়মনসিংহ থেকে ৩ আসামি গ্রেফতার

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার, ০৩:৩৪ পিএম

চট্টগ্রাম ঢাকা ও ময়মনসিংহ থেকে ৩ আসামি গ্রেফতার

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার অন্যতম ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও ঢাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিনকে ভালুকা থেকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল আজ শুক্রবার সকালে তাঁকে আটক করে।

পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহে দুপুরে ভালুকা সিড স্টোর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নূর উদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ফেনীতে পাঠানো হয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম সরাসরি জড়িত বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁরা দুজনই রয়েছেন সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁদের ধরতে পারলেই মূল রহস্য বের হবে বলে এলাকার মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধারণা। অবশ্য মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে সন্দেহভাজনদের ধরতে বুধবার রাত থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযান শুরু করেছে।

নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তাঁর মুক্তির দাবিতে ‘সিরাজ উদ দৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ’ নামে কমিটি গঠন করা হয়। ২০ সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হন শাহাদাত হোসেন। তাঁদের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে গত ২৮ ও ৩০ মার্চ উপজেলা সদরে দুই দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। তাঁরাই নুসরাতের সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে এজাহারভুক্ত অপর দুই আসামি হলেন-সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে ঢাকা থেকে  ও জাবেদ হোসেনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই মামলায় মোট ১২ জন গ্রেফতার হলেন।

মোকসুদ আলম সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত জাবেদ হোসেন সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্যার ছেলে।

এ মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা সাত দিনের রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া ওই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আফসার উদ্দিন এবং নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, নুসরাতের সহপাঠী ও মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি ও আরেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন।

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনও পলাতক রয়েছেন সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের ওই মাদ্রাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম ও হাফেজ আবদুল কাদের।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা।

শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।