সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

আবাসনখাতে কম লাভ বেশি বিক্রি নীতি গ্রহণ করুন : ভূমিমন্ত্রী

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১১:৪৪ পিএম

আবাসনখাতে কম লাভ বেশি বিক্রি নীতি গ্রহণ করুন : ভূমিমন্ত্রী

শহর এলাকায় ১ হাজার স্কয়ার ফুট কিংবা এর চেয়ে ছোট জায়গায় দুই বেডের অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির কনসেপ্ট নিয়ে এগোতে আবাসন ব্যবসায়ীদের তাগিদ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে, সেভাবে অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তোলা ছাড়া উপায় দেখছি না। আবাসন ব্যবসার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘অ্যাফোর্ডেবল’ হাউজিং। ক্রেতার কাছে কম দামে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া। এ জন্য ‘লেস প্রফিট, মোর ভলিউম’ নীতি অনুসরণ করা যায়। তবেই আবাসন ব্যবসায় গতি আসবে।’

বৃহস্পতিবার নগরের রেডিসন ব্লু  চিটাগাং বে ভিউতে চার দিনব্যাপী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবাসন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে আবাসন ব্যবসার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু হঠাৎ করে একটা পর্যায়ে এসে আবাসন ব্যবসা চ্যালেঞ্জর মুখে পড়েছে। তবে মনে হচ্ছে, আবাসন ব্যবসার মেঘ সরছে। এ ব্যবসার একটা ভালো ভবিষ্যৎ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলেন ভূমির উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং করা সম্ভব হচ্ছে না। সিঙ্গাপুর, টোকিও, হংকংকেও কিন্তু একই অবস্থা। জমির দাম নাগালের বাইরে। তবে তারা বসে নেই। তারা মাইক্রো হাউজিং, মাইক্রো অ্যাপার্টমেন্ট চালু করে আবাসন ব্যবসাকে জমজমাট রেখেছে।’

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন লোক তার সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে প্লট কিংবা ফ্ল্যাট ক্রয়ের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু কিনতে গিয়ে যখন প্রতারণার শিকার হন- তখন আবাসন ব্যবসার জন্য এটা মঙ্গল বয়ে আনে না। প্রত্যেক ব্যবসায় ভালো-মন্দ লোক আছে। একটা ব্যবসায় সব লোক ভালো হবে- এমনটা আশা করাও যায় না। গুটি কয়েক মন্দ লোকের কারণে আবাসন ব্যবসার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই এসব ফ্রডদের ধরতে হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতারণা ঠেকাতে রিহ্যাব একটি মনিটরিং টিম গঠন করতে পারে। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা দরকার।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, আবাসন ব্যবসায় সবাই দাবি করে, তারা রিহ্যাবের মেম্বার। কিন্তু মেম্বারদের একটি রেটিং থাকা দরকার। সব কাজের মনিটরিং দরকার। কোনো মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে দ্রুত তা তদন্তের দরকার। দোষী প্রমাণিত হলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা দরকার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন,  ভাইস প্রেসিডেন্ট  ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান কামাল মাহমুদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী।

পরে রিহ্যাব নেতাদের নিয়ে ফিতা কেটে ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারের’ উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।