সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

ক্ষতিপূরণ পায়নি অনেকে, পুনর্বাসন বহুদূর

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১১:১৪ পিএম

ক্ষতিপূরণ পায়নি অনেকে, পুনর্বাসন বহুদূর

বঙ্গবন্ধু টানেল, কোরিয়ান ইপিজেড কিংবা কাফকো-সিইউএফএল। উন্নয়নযজ্ঞে বদলে যাচ্ছে আনোয়ারা। এজন্য এখানকার মানুষের ত্যাগও অনেক।  উচ্ছেদ অভিযানে বার বার কোপ পড়েছে বৈরাগ ইউনিয়নের বৈরাগ, মোহাম্মদপুর, বন্দর এলাকার মানুষের ভিটা-সম্পত্তির উপর।

বিগত সময়ে অধিগ্রহণ হয়েছে ফসলি জমি কিংবা পরিত্যক্ত জায়গা। এবার কর্ণফুলীর তলদেশে বাস্তবায়নাধীন বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পে সংযোগ সড়কটি যাচ্ছে ঠিক বাপ-দাদার ভিটা বরাবর। বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়েছে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে বসতবাড়ির উচ্ছেদ। আর তাতে অনেকে কেঁদেছেন অঝোরে। বাপ-দাদার শেষ ঠিকানা হারানোর সান্তনা খুঁজে পাচ্ছিল না কেউ। এ যেন নাড়ি ছেঁড়া ধন হারানোর কাব্য।

শনিবার সকালে দিনভর মোহাম্মদপুর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে হতাশা আর বিষাদের ছায়া। বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হলেও ক্ষতিপূরণ পায়নি অনেকে। ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের কথা থাকলেও সে কার্যক্রম এখনো বহদূর। যদিওবা গত সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের উপ-পরিচালক ড. অনুপম সাহা আনোয়ারায় এক অনুষ্ঠানে এসে বলেছিলেন এ বছরেই শুরু হবে পুনর্বাসন কার্যক্রম।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে দেখা গেছে চরম হতাশা। ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলেও এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি অনেকে। এ অবস্থায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। যে কারণে উদ্বেগ উৎকন্টার মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতিতে বৃহষ্পতিবার সকাল ৯ টায় বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় বাড়িঘর উচ্ছেদ শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ছাড়াই কাজ শেষ হয়।  ক্ষতিপূরণের টাকা না পেয়ে অনেকে চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে ছেড়ে গেছেন নিজের স্থায়ী ঠিকানাটি।

বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর গ্রামে উচ্ছেদকালে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু টানেল কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক ড. অনুপম সাহা, বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান । এ সময় আনোয়ারা থানার পুলিশ, সশস্ত্র ব্যাটেলিয়ন আনসার সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের বিপুল সংখ্যক সদস্য উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

তিনটি বুলডেজার এর মাধ্যমে বিরামহীনভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনায় চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও শতাধিক শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন। জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার পর বৈরাগ, বন্দর, মোহাম্মদপুর এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাঁধা দিতে একটি গ্রুপ মাইকিং করে। এতে প্রশাসনের কিছুটা হলেও উদ্বেগ-তৈরি হয়।  তবে  সকালে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষ থেকে সেরকম অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। 

স্থানীয় বাসিনাদা নুর মোহাম্মদ বলেন,  বিশ্বাস করতে পারছি না এত তাড়াতাড়ি বাড়িঘর হারাতে হবে। পুনর্বাসনের আগে এভাবে উচ্ছেদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

জানা যায়, মামলা কিংবা ভূমির নামজারী সংক্রান্ত জঠিলতার কারণে অনেকেই এখনো ভূমি ও বসতঘরের কোনটারই মূল্য পায় নি। এ অবস্থায় তাদের বাড়ীঘর ছাড়তে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এ অবস্থায় দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি চেয়ে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসন ও টানেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। উচ্ছেদ অভিযানকালে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বৈরাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল মনসুর চৌধুরী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ সোলাইমান।

এ সময় স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ সোলাইমান বলেন, মাননীয় ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এসেছেন। ভূমি মন্ত্রী তার মাধ্যমে জানিয়েছেন অতি দ্রুত অবকাঠামোর মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণসহ মামলার নিষ্পত্তি, প্রকৃত মালিককে ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। তাই উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু টানেল কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক ড. অনুপম সাহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা দিতে টানেল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। শুধুমাত্র মামলা ছাড়া পারিবারিক বিরোধের কারণে যে সমস্ত পরিবার এখনো টাকা পায় নি তাদের গণ শুনানীর মাধ্যমে অতি দ্রুত টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কোন ধরনের হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানায়, ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের জন্য ২০ একর ভূমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত এর কাজ শেষ ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হয়েছে। আর মামলা সংক্রান্ত কারণে যারা ক্ষতিপূরণ পায় নি তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা প্রদান করে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।