রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর উত্তাপ

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার, ০৮:৫৪ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর উত্তাপ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ওপর  মঙ্গলবার দুই দফা হামলা করেছে ছাত্রলীগ। হামলায় আহত হয়েছে ৭ জন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় ঢাকসু নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির প্রতিবাদে তারা মিছিল বের করলে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় দুজন আহত ও ৪ নারী কর্মীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহতরা হলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট চবি শাখার সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার আবিদ হাসান ও নাট্যকলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মুর্শেদ ওয়াসিক।

আহতের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে চবি মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার আবু তৈয়ব বলেন, দুজনের মাথায় কিছুটা আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর ক্যাম্পাস থেকে পুলিশি পাহারায় ছাত্রজোটের নেতাকর্মীদের এক নম্বর গেট দিয়ে যাওয়ার সময় দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের ওপর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে ছাত্রজোটের অন্তত পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্র সংগঠনগুলো কোনো কর্মসূচি পালনের আগে প্রক্টর অফিসকে অবহিত করলে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারি। তাদের কর্মসূচির ব্যাপারে প্রক্টর অফিস অবগত ছিল না। তারপরও ঘটনা জানার পর তাৎক্ষণিক পুলিশ ও প্রক্টরিয়ালবডি সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’

এ সময় তিনি চাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের চর্চা হোক সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও চায়। তবে তার আগে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান থাকা দরকার। পুলিশ দিয়ে জোর করে তো ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে আন্তরিকতা থাকাটা জরুরি।’

এ হামলায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন অপরাধ প্রশ্রয় দেয় না। এক্ষেত্রেও তাই হবে। অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ছাত্রলীগের হামলায় আহতরা হলেন, চবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আবিদ খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক সাইমা আক্তার নীপা, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাত মাওয়া মুমু, চবি ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা জাহান রুমি এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের রাজশ্বের দাশগুপ্ত, সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জনি কান্ত রায় ও নাট্যকলা বিভাগের মুশফিক উদ্দিন ওয়াসি।

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুর বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চাকসুর সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে কতিপয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিব।’

এদিকে, চবি ক্যাম্পাসে প্রথম দফা হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা জাহান রুমি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আশরাফী নীতুকে পুলিশের গাড়িতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেইট এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম শহরগামী তিন নম্বর বাসে করে শহরে আসার সময় বাসটি ফতেয়াবাদ এলাকায় পৌঁছালে বাস থামিয়ে আবারও হামলা করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় চালক গাড়ি থামাতে না চাইলে ভাঙচুরের হুমকি দেয় তারা। থামানোর পর প্রথমে গাড়িতে উঠে চালক এবং সহকারীকে মারধর করা হয়। এরপর গৌরচাঁদকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিতে চাইলে রুমি ও নীতু বাধা দেয়। এ সময় তাদের লাথি মেরে বাস থেকে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। পরে গৌরচাঁদকে টেনে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে গৌরচাঁদকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয় এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা জাহান রুমি বলেন, আমারা শহরে আসার সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ফতেয়াবাদ এলাকায় আমাদের ওপর আবারো হামলা চালায়। এসময় গৌরচাঁদকে রাস্তায় নামিয়ে মারধর করে। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ জানান, ‘ছাত্রলীগ এবং নেত্রীকে নিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয় তারা। ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীরা এ সময় বাধা দেয়। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে।’